ল্যাপটপের ফ্যানে অতিরিক্ত শব্দ হলে করণীয়

ল্যাপটপের ফ্যানে অতিরিক্ত শব্দ হলে করণীয়
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৬  

গেমিংয়ের অদম্য নেশা হোক কিংবা পড়াশোনা ও দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততা- ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় একটি অত্যন্ত পরিচিত ও বিরক্তিকর সমস্যায় কমবেশি সবাই পড়েছেন। তাহলো ল্যাপটপের ভেতরে থাকা কুলিং ফ্যান বা পাখার বিকট আওয়াজ। 

কাজের ফাঁকে কিংবা গেম খেলার উত্তেজনার মুহূর্তে এই অনবরত শব্দ মনসংযোগ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। তবে এই অতিরিক্ত শব্দ সব সময় কোনো বড় বিপদের লক্ষণ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গেমিং বা ভারী কাজের ল্যাপটপে প্রসেসর (সিপিইউ) ও গ্রাফিক্স কার্ডের (জিপিইউ) অতিরিক্ত উত্তাপ বাইরে বের করে দেওয়ার জন্যই ফ্যানগুলোকে প্রচণ্ড গতিতে ঘুরতে হয়। 

অর্থাৎ ল্যাপটপকে নিরাপদ রাখতেই ফ্যানগুলো এই আওয়াজ তৈরি করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রাইভেসির পাশাপাশি যন্ত্রের সুরক্ষাতেও উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যা একটু সতর্ক হলেই সহজে সমাধান করা সম্ভব।

হঠাৎ ল্যাপটপে জেটের মতো গর্জন কেন?
ল্যাপটপে ক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপের কাজ দিলে এতে থাকা কুলিং ফ্যানগুলো সর্বোচ্চ গতিতে ঘুরতে শুরু করে। ‘ক্রিমসন ডেজার্ট’-এর মতো উচ্চ গ্রাফিক্সের আধুনিক গেম কিংবা ফোরকে ভিডিও রেন্ডারিংয়ের মতো ভারী কাজ করার সময় যন্ত্রের প্রসেসর ও গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের করে না দিলে ভেতরের যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে। 

আসুস রগ জেফায়ারাস জি১৪-এর মতো উচ্চগতির গেমিং ল্যাপটপগুলোতে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য ‘টার্বো মোড’ থাকে। এই মোড চালু করলে গেম দারুণ চললেও ফ্যানের শব্দের মাত্রা ৫০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সাধারণ ঘরের পরিবেশের তুলনায় বেশ সোচ্চার। 

এ ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অনেক সফটওয়্যার চলতে থাকলে কিংবা বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলেও ফ্যানের আওয়াজ অনেক বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত আওয়াজ কি ল্যাপটপের জন্য ক্ষতিকর?
যদি ‘সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭’-এর মতো ভারী গেম খেলা বা জটিল গ্রাফিক্সের কাজ করার সময় ফ্যান জোরে শব্দ করে, তবে তা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি ল্যাপটপ নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং ফ্যানগুলো সঠিকভাবে নিজের কাজ করে যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখছে। 

কিন্তু সমস্যা হলো তখনই, যখন আপনি সামান্য কোনো কাজ করছেন- যেমন ব্রাউজারে কেবল একটি থেকে দুটি ট্যাব বদলাচ্ছেন, অথচ ল্যাপটপের ফ্যান বিমান উড্ডয়নের মতো বিকট শব্দ করছে।

কাজের চাপ না থাকার পরও যদি ফ্যান সর্বোচ্চ গতিতে ঘুরতে থাকে, তবে বুঝতে হবে ল্যাপটপের ভেতরে ধুলাবালি জমে বাতাস চলাচলের পথ আটকে গেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো দক্ষ মেরামতের দোকানে নিয়ে বিশেষ যন্ত্র বা কম্প্রেসড এয়ারের মাধ্যমে বাতাস দিয়ে ভেতরের ধুলা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। 

অন্যদিকে, যদি ফ্যান থেকে খটখট বা ঘড়ঘড়জাতীয় অস্বাভাবিক শব্দ আসে, তবে তা আরও আশঙ্কাজনক। এর অর্থ হতে পারে ফ্যানের ভেতরের বিয়ারিং বা ঘুরন্ত যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ল্যাপটপ মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের শব্দ শুনলে দেরি না করে দ্রুত অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া উচিত।

ল্যাপটপের ফ্যানের শব্দ কমানোর সহজ উপায়
ল্যাপটপ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ কমানোর জন্য কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রথমত, উইন্ডোজ চালিত ল্যাপটপে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন বদলে নেওয়া যায়। এর জন্য সেটিংসে গিয়ে ‘সিস্টেম’ থেকে ‘পাওয়ার অ্যান্ড ব্যাটারি’ অপশনে ঢুকতে হবে। সেখানে ‘পাওয়ার মোড’ থেকে ‘বেস্ট পাওয়ার ইফিসিয়েন্সি’ নির্বাচন করলে সিস্টেম কম শক্তিতে চলবে এবং ফ্যানের গতি ও শব্দ দুটিই কমে আসবে। 

এ ছাড়া ব্র্যান্ডের নিজস্ব সফটওয়্যার (যেমন আসুসের ‘আর্মারি ক্রেট’) থেকে ‘কোয়ায়েট মোড’ চালু করেও খুব সহজে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

গেম খেলার সময় ফ্যানের তাণ্ডব কমাতে ইন-গেম সেটিংস খানিকটা কমিয়ে আনা অত্যন্ত কার্যকর। গেমের ফ্রেম রেট ৬০ এফপিএসে সীমিত করে দিলে এবং ‘রে ট্রেসিং’-এর মতো ভারী ভিজ্যুয়াল সুবিধা বন্ধ রাখলে গ্রাফিক্স কার্ডের ওপর চাপ অনেক কমে যায়। ফলে ফ্যানও শান্ত থাকে। 

পাশাপাশি ল্যাপটপ ব্যবহারের স্থানের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নরম তোশক, বিছানা বা কোল বালিশের ওপর রেখে কাজ করলে বাতাস চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তাই সব সময় টেবিল বা কোনো মসৃণ সমতল স্থানে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করা উচিত, যাতে নিচের বাতাস চলাচলের পথটি খোলা থাকে এবং ফ্যানের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

ডিবিটেক/বিএমটি