প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান

জলবায়ু ক্ষতি ঠেকাতে প্রযুক্তি সহায়তা চান তারেক রহমান

  • জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে প্রযুক্তি ও সহজলভ্য অর্থায়নের আহ্বান
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
  • ২০৩০ সালে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য করার লক্ষ্য বাংলাদেশের

জলবায়ু ক্ষতি ঠেকাতে প্রযুক্তি সহায়তা চান তারেক রহমান
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৫৮  

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে সহজ প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায়  দেয়া বক্তব্যে এআ আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সভাটির লক্ষ্য ছিল ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষ ও জীবিকা সুরক্ষায় বাস্তবভিত্তিক সমাধান ত্বরান্বিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

তিনি বলেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু অভিযোজনের জন্য এ বছরের বাজেটে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।

এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি  পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সবার আগে জোর দিয়েছেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেন। 

এরপরেই ‘জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ ঘটাতে হবে’ বলে মত দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

সবশেষে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনর্ভরণ করার তাগিদ দেন তিনি।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
//ডিবিটেক/এসপিএমও/এমএসআই/সিপিএম//