প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় দক্ষতা বাড়বে

প্রাথমিক শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের এআই ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে
  • প্রযুক্তি শিক্ষকের বিকল্প নয়, সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার
  • শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের উদ্যোগ

প্রাথমিক শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ দেবে সরকার
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৯  

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর হলেও এর কার্যকর প্রয়োগে শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা জরুরি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, সাইডলাইনে Education House at UNGA 81 আয়োজিত ‘এমপাওয়ারিং টিচার্স ইন লো-রিসোর্স ক্লাসরুমস টু কো-ডিজাইন এডটেক ফর স্টুডেন্ট-সেন্টার্ড লার্নিং’ শীর্ষক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের Education House-এ অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতায় শিক্ষকদের নেতৃত্বে শিক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষায় এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের বিষয় গুরুত্ব পায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর। তবে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে। এ কারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এআই ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং এটি শিক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর হাতিয়ার। বিশেষ করে স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা চাই আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন না, বরং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে নিজেরাও উদ্ভাবনী ভূমিকা রাখবেন। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়েই শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল এবং স্থানীয় প্রয়োজনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও অংশীদারদের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈশ্বিক সংলাপের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মালদ্বীপের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ মোহামেদ, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কার্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালেক্স ওয়ং এবং ইউনেস্কোর পলিসিজ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিং সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক বোরহানে চাকরুন। Education House-এর প্রকাশিত তথ্যেও তাঁদের এ অধিবেশনের বক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য আইসিটি-এআই দক্ষতা কাঠামো নিয়েও সরকারি পর্যায়ে কাজ হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও ইউনেস্কো বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় ‘আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক ফর প্রাইমারি টিচার্স’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ববি হাজ্জাজ।

পরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি: মডার্নাইজিং বাংলাদেশ'স এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস—টার্নিং লার্নিং ইনটু জবস, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইকোনমিক স্ট্রেংথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের দক্ষতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
//এমটিএম/এসএমই/এমআইএসটি//