টেক্সটাইল শিল্পে প্রযুক্তির জোর

আইটিইটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অভিষেক

  • শিল্পের আধুনিকায়নে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা
  • টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাডারের দাবি
  • দূতাবাসের বাণিজ্যিক উইংয়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলী নিয়োগের আহ্বান

আইটিইটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অভিষেক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৩৬  
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৪  
 30

দেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। একই সঙ্গে শিল্প, সরকার ও প্রকৌশলীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

 রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়।

আইটিইটি, বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান (সিআইপি), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খান।

অনুষ্ঠানে আইটিইটি, বাংলাদেশের ১৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাকারিয়া তাহের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিল্পখাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাধীনতার পর এ খাত দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে শিল্পখাতের অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প, সরকার ও প্রকৌশলীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।

আইটিইটির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে থেকে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি ‘Together for a Sustainable Textile Future’ গড়ে তুলতে আইটিইটির ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন—বাংলাদেশ থেকে কোনো ব্যবসায়ী বিদেশে গেলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে বিমানবন্দরে তাদের গ্রহণ, প্রটোকল এবং বৈঠকে সহযোগিতা করতে হবে। একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারি প্রতিনিধি নন, তিনি দেশের একজন ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনগণের করের অর্থে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের দাবিগুলো তুলে ধরতে অতিথিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর বাণিজ্যিক উইংয়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলী নিয়োগ এবং পৃথক টেক্সটাইল ক্যাডার চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

//ডিবিটেক/ এসএমই/এএইচ/এমআইটি//