অংশ নিয়েছে ১২ দেশের ২৫০ প্রতিষ্ঠান
ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু
- ৫৩টি স্টলে কৃষি যন্ত্র, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে ১২ দেশের প্রতিষ্ঠান
- পানি সাশ্রয়, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব সরকারের
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পানি ও সার ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’। মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠান ৫৩টি স্টলে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ মেলা চলবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার্স অ্যান্ড এক্সিবিশনস যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেশের কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষকদের মেধার মূল্যায়ন, গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সমাজে তাঁদের সম্মান বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবারের মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি কৃষি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ৫৩টি স্টলে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এ আয়োজন দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
কৃষিতে পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং আরডিএর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করে ৪০ শতাংশ পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সারের সঠিক ব্যবহার, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ রোধ এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরে নতুন কূপ খনন না করায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ৫২টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস পাওয়ার সুখবর এসেছে বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উদ্বৃত্ত আলু থেকে স্টার্চ পাউডার তৈরির কারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের কারখানা স্থাপন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে। এ ছাড়া বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে উত্তরাঞ্চলের আলু ও সবজি বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামানিক কৃষির বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। কৃষি গবেষণা, শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে কৃষির টেকসই উন্নয়নে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
//ডিবিটেক/বিইউপিআর/এসএমপি/এমভিএনও//





