৪ পদে কর্মরত মাত্র ২ জন; সেবা নিতে গ্রামীণ নারীদের ভোগান্তি
জনবল সংকট ও ভুল অবস্থানে ফরিদগঞ্জে ব্যাহত ‘তথ্য আপা’
- গ্রামীণ নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা ও ক্ষমতায়নে চালু হওয়া ফরিদগঞ্জের ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প জনবল সংকট ও কার্যালয়ের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে ব্যাহত
- অনুমোদিত চারটি পদের মধ্যে দুটিই দীর্ঘদিন শূন্য; তথ্যসেবা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তথ্যসেবা সহকারী
- উপজেলা সদরের বাইরে নির্মাণাধীন ভবনের পেছনে কার্যালয় হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের বাড়তি সময় ও যাতায়াত ভাড়া গুনতে হচ্ছে
গ্রামীণ নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা পৌঁছে দেওয়া, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প। তবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এবং কার্যালয়ের অবস্থানগত জটিলতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পের কার্যক্রম। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ নারীরা।
উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে তথ্য আপা প্রকল্পে মোট চারটি পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। দীর্ঘদিন ধরে তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও একজন তথ্যসেবা সহকারীর পদ শূন্য পড়ে আছে। ফলে তথ্যসেবা সহকারী ইসরাত জাহানকে নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তথ্যসেবা কর্মকর্তার কাজও পরিচালনা করতে হচ্ছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে সার্বিক কাজে সহায়তার জন্য অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মো. জাকির হোসেন। এই সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের ঘরে ঘরে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পৌঁছে দিতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের।
এদিকে সেবাগ্রহীতাদের বড় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে প্রকল্প কার্যালয়টির অবস্থান নিয়ে। উপজেলা সদরের জনবহুল ও সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থানে অফিস না করে কিছুটা দূরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের পেছনের অংশে দ্বিতীয় তলায় কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা গ্রামীণ নারীরা সহজে কার্যালয়ের হদিস পান না। কার্যালয় খুঁজে বের করতে গিয়ে তাদের বাড়তি সময় অপচয় এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা রোকসানা বেগম জানান, নারীদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবার কথা শুনে তিনি ফরিদগঞ্জ সদরে আসেন। কিন্তু মূল সড়ক থেকে দূরে ও নির্মাণাধীন ভবনের আড়ালে থাকায় অফিসটি খুঁজে পেতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারীদের ভোগান্তি কমাতে কার্যালয়টি উপজেলা পরিষদ চত্বর বা সহজে গমনাগমনযোগ্য স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান তিনি।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তথ্যসেবা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, "পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উপজেলার বিপুলসংখ্যক নারীকে নিয়মিত সেবা দিতে আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন করা হলে আরও বেশি নারীকে সেবার আওতায় আনা যেত। পাশাপাশি কার্যালয়টি উপজেলা চত্বরে বা জনবহুল স্থানে স্থানান্তর করা হলে সাধারণ নারীদের যাতায়াত অনেক সহজ হতো।"
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, তথ্য আপা প্রকল্পের জনবল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলায় সরকারি দাপ্তরিক স্থানের সংকট থাকায় সাময়িকভাবে একটি ভাড়া ভবনে প্রকল্পের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
//ডিবিটেক/এসএইচসিজেএন/এসএমই/এমএসআই//





