এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ৩৪০ কোটি ডলারের চুক্তি করল অ্যানথ্রোপিক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের দ্রুত বর্ধমান প্রযুক্তিগত চাহিদা সামলাতে এবং ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ জোগান সুনিশ্চিত করতে বিশাল অঙ্কের এক জ্বালানি চুক্তি সম্পাদন করেছে শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক।
আন্তর্জাতিক ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের ডেটা সেন্টারে প্রাকৃতিক গ্যাস-চালিত বিকল্প বিদ্যুৎ জেনারেটর নিশ্চিত করতে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন বা ৩৪০ কোটি ডলারের এক মেগা চুক্তি সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ 'ক্লড' এআই মডেলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটিং শক্তি ও বিদ্যুতের অভাবনীয় চাহিদা তৈরি হওয়ায় এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছে অ্যানথ্রোপিক।
টেক্সাসের ওয়ানপওয়ারের সাথে চয়ন ও জেনারেটর সরবরাহ
প্রকাশিত নথির তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিওভিত্তিক ভারী সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ওয়ানপওয়ার সলিউশন্স'-এর কাছ থেকে ১.৭ গিগাওয়াট (১৭০০ মেগাওয়াট) ক্ষমতার ভারী বিদ্যুৎ জেনারেটর সরবরাহের প্রাথমিক অধিকার কিনে নেয় অ্যানথ্রোপিক।
এই চুক্তির আওতায় সরাসরি ওই জ্বালানি প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ না করা হলেও, জেনারেটর স্থাপন, চালনা ও তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জটিল প্রকৌশল এবং নির্মাণগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটির আন্তর্জাতিক সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও, অ্যানথ্রোপিক বা ওয়ানপওয়ারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অবকাঠামো ও ভবিষ্যতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতের বিনিয়োগের সুফল কেবল সফটওয়্যার বিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর বিশাল অবকাঠামোগত ভিত্তি ও পরিচালন সংক্রান্ত জ্বালানি সংকট মেটানো এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রধান জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত পৃথক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অ্যানথ্রোপিক আগামী দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণে ৫০ হাজার কোটি (৫০০ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি মূলধনি অর্থ ব্যয়ের সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এআই ডেটা সেন্টারগুলোর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর এই ধরনের অভিনব ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নীতিমালার ওপর দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





