সৃজনশীল অর্থনীতিতে সরকারি উদ্যোগ

ই-কমার্সে বিশ্ববাজারে পৌঁছাবেন দেশীয় শিল্পীরা

  • আমাজন, ইবে ও আলিবাবায় দেশীয় শিল্পীদের পণ্য বিপণনে সহায়তা দেবে সরকার
  • শিল্প-সংস্কৃতিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার
  • সৃজনশীল শিল্পকে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

ই-কমার্সে বিশ্ববাজারে পৌঁছাবেন দেশীয় শিল্পীরা
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৭  

দেশীয় শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিপণনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা তৈরি, ব্র্যান্ডিং ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সৃজনশীল শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি এ খাতকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

২৪ অক্টোবর, শনিবার  রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে মূলধারার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করে দেশের নতুন জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। প্রথাগত অর্থনৈতিক চিন্তায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সব সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পেছনে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্বের মাধ্যমে সৃজনশীল খাতকে এগিয়ে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে সরকার বাজেটে এ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছে।

সৃজনশীল খাতের প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা তৈরি, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিপণনের সুযোগ তৈরি হলে প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিক্রির মাধ্যমে আয় নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি কেবল শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসার বিষয় নয়; বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক শক্তি। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে দেশের নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এই উদ্যোগের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টায় দেশে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক।

//ডিবিটেক/জেএনআর/এমএসআই/এসএমপি//