টাওয়ারে গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা
ইডটকো–ফ্লোসোলার চুক্তি, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই
- টেলিকম অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা যাচাই করবে দুই প্রতিষ্ঠান
- ফ্লোসোলার প্রকল্প উন্নয়ন ও অর্থায়ন করবে; ইডটকো চিহ্নিত করবে উপযুক্ত সাইট
- ১০০ মেগাওয়াট পিক সক্ষমতায় বছরে ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক হিসাব
টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গ্রিড-সংযুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করবে ইডটকো বাংলাদেশ ও ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেড। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এতে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, এ অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য ইডটকোর টেলিকম টাওয়ার পরিচালনায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো। এর মাধ্যমে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যদক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ইডটকোর কার্যক্রমে সরবরাহের সুযোগ মূল্যায়ন করবে দুই প্রতিষ্ঠান। সম্ভাব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান নির্বাচন, গ্রিড সংযোগ এবং প্রকল্প উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে ফ্লোসোলার। অন্যদিকে, উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা এবং বিদ্যুতের চাহিদা মূল্যায়নে সহায়তা করবে ইডটকো।
প্রস্তাবিত মডেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো স্থাপনে ইডটকোর প্রাথমিক মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও অর্থায়নের দায়িত্বে থাকবে ফ্লোসোলার। তবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং চূড়ান্ত বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলির ওপর নির্ভর করবে এ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রত্যাশা, এ মডেল দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয়ের বিষয়ে আরও পূর্বানুমানযোগ্যতা তৈরি করতে পারে।
ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিসর বাড়ার সঙ্গে এসব অবকাঠামোয় বিদ্যুৎ সরবরাহের পদ্ধতিও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের এ উদ্যোগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি টাওয়ার পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতের সংযোগব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য ও টেকসই হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্লোসোলার সলিউশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, টেলিকম নেটওয়ার্ক ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে বলে এর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সমঝোতা ইডটকো ও ফ্লোসোলারকে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্কে পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পরিকল্পিত কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, এমন একটি প্রকল্প দিয়ে এ উদ্যোগের প্রথম ধাপ শুরু করার লক্ষ্য তাঁদের।
প্রতিষ্ঠান দুটির দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতা থেকে বছরে প্রায় ১৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এতে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যেতে পারে। তবে প্রকৃত উৎপাদন ও নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ নির্ভর করবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ধরন, প্রযোজ্য গ্রিড নিঃসরণ সূচক এবং জাতীয় গ্রিডের কোন পরিমাণ বিদ্যুৎ এ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে তার ওপর।
//ডিবিটেক/এমএইচআইপি/এসএমই/এমআইএস//





