জনসেবায় প্রযুক্তি বিনিময়ে আগ্রহ

বাকুতে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফকির মাহবুব আনামের বৈঠক

  • ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ ও আজারবাইজানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক
  • জনবান্ধব সেবায় এআই, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা
  • প্রশাসনিক উদ্ভাবনে ডেটা গভর্নেন্স ও সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ

বাকুতে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফকির মাহবুব আনামের বৈঠক
৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৪  

জনসেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য ও জনবান্ধব করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে প্রযুক্তি বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারের চলমান উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল (ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) লি জুনহুয়া এবং আজারবাইজানের স্টেট এজেন্সি ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড সোশ্যাল ইনোভেশনসের চেয়ারম্যান উলভি মেহদিয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

৭ নভে, শনিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ‘ইউএন গভর্ন্যান্স ইনোভেশন সামিট: অ্যাডভান্সিং ফিউচার-রেডি ইনস্টিটিউশনস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সেবার প্রযুক্তিকায়ন নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এআই, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে অংশগ্রহণমূলক করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

ভবিষ্যৎ উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশাসনিক উদ্ভাবন এবং জনসেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন ফকির মাহবুব আনাম।

এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে ‘চ্যালেঞ্জিং কনভেনশনাল অ্যাপ্রোচেস টু গভর্ন্যান্স ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক ‘ক্রস-এক্সামিনেশন ডায়ালগ’-এ অংশ নেন মন্ত্রী।

অধিবেশনে তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সরকারি প্রশাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। সংযোগ একটি ভিত্তি হলেও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিই সেই সংযোগকে জনকল্যাণে রূপ দেয়। নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সরকারকে প্রথমে সমস্যাটি বুঝতে হবে, বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমাতে হবে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনের অষ্টম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট জবাবদিহি, আন্তঃসংযোগযোগ্য ডেটা ব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয়, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতা। পাশাপাশি শক্তিশালী ডেটা গভর্নেন্স, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং সহজলভ্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

//ডিবিটেক/এমজেডইউ/এসএমপি/এমআইএসটি//