অনলাইন পোকার খেলোয়াড়দের লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার শঙ্কা
অনলাইন পোকার জগতের নিরাপত্তায় এক বিশাল ফাটল ধরিয়ে দিয়ে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক সাইবার হামলার ঘটনা। ক্ষতিকর ‘মেশএজেন্ট’ ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এবং তাঁদের গোপন কার্ড দেখে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিভিত্তিক সাময়িকী ‘ওয়্যার্ড’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ জালিয়াতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
যেভাবে চলেছে এই জালিয়াতি
অনলাইন পোকারের পরিভাষায় এ ধরনের প্রতারণা ‘সুপারইউজার’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় হ্যাকাররা অনৈতিক উপায়ে অন্য খেলোয়াড়ের ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর হাতের গোপন কার্ড সরাসরি দেখে ফেলার সুযোগ পায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একসঙ্গে একাধিক পোকার গেম পরিচালনা করতে ব্যবহারকারীরা যে তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন সহায়ক টুল ব্যবহার করেন, মূলত সেগুলোর মাধ্যমেই বেশ কয়েকজন শীর্ষ পেশাদার খেলোয়াড়ের কম্পিউটারে নীরবে ‘মেশএজেন্ট’ নামের একটি ক্ষতিকর রিমোট-অ্যাকসেস সফটওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে প্রতারক দূর থেকেই আক্রান্ত খেলোয়াড়ের স্ক্রিন লাইভ দেখার সুযোগ পায় এবং পোকার ম্যাচগুলোতে সহজেই বিপুল পরিমাণ অর্থ জিতে নেয়।
পোকার প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামনে আসার পর গেমিং কমিউনিটিতে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও আইনি জটিলতার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির আসল নাম প্রকাশ করেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অনলাইন পোকার প্ল্যাটফর্মের ভূমিকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
একটি প্ল্যাটফর্ম কোনো খেলোয়াড়ের অবিশ্বাস্য জয়ের হার এবং অস্বাভাবিক কৌশল লক্ষ্য করে আগেই অভিযুক্তের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান খেলোয়াড়দের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ ডায়াগনস্টিক টুল উন্মুক্ত করে।
তবে এর বিপরীতে একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম খেলোয়াড়দের স্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। এমনকি গেমের ফলাফলে কোনো কারচুপির প্রমাণ মেলেনি- এমন দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের অর্থ ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানায় ওই প্রতিষ্ঠানটি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অনলাইন জুয়া ও গেমিংয়ের এই ঘটনাটিকে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। থার্ড-পার্টি বা অননুমোদিত যেকোনো সহায়ক সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





