চ্যাটজিপিটি, গুগল-মেটাসহ ডিজিটাল সেবায় কর নীতি সংস্কারের দাবি

চ্যাটজিপিটি, গুগল-মেটাসহ ডিজিটাল সেবায় কর নীতি সংস্কারের দাবি
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৩  

চ্যাটজিপিটি, গুগল, মেটা ও ফেসবুকসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হওয়া ক্রস-বর্ডার লেনদেনে অর্থ পাচার রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে ডিজিটাল সেবায় কর নীতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

২৮ এপ্রিল, মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ মাসুদ আলম এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সভায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থার নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ওপর কর আদায় করা উচিত এবং ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তি আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিতভাবে গুগল, মেটা, ফেসবুক ও চ্যাটজিপিটির বিভিন্ন সেবা কেনা হচ্ছে, কিন্তু এর বিপরীতে দেশীয় রাজস্ব কাঠামো তেমন সুবিধা পাচ্ছে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চ্যাটজিপিটির একটি সেবা কিনতে বাংলাদেশে বসে বিদেশে কর পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ একই লেনদেন থেকে বাংলাদেশ সরকার কোনো কর পাচ্ছে না। তার মতে, বাংলাদেশে কতসংখ্যক ব্যবহারকারী এসব প্রিমিয়াম ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন, তা পর্যালোচনা করে কর কাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে ছোট পরিসরে হলেও ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল লেনদেনে কর আরোপ শুরু করা যেতে পারে। একইভাবে ফেসবুকের বিভিন্ন লেনদেন, স্ট্রিমিং সেবা এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রেও বর্তমানে কার্যকর কর ব্যবস্থা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি জানায়, দেশে ভাড়া বাসা থেকেও বড় অঙ্কের সম্ভাব্য রাজস্ব আসে, যা এখনো অনেকাংশে অদৃশ্য করভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাড়ার আয় নগদে লেনদেন হওয়ায় তা করযোগ্য আয়ের আওতায় আসে না।

সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী, সব ভাড়া চুক্তি ডিজিটাল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, ভাড়াটিয়া পরিবর্তনের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সীমার বেশি ভাড়ার ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

তবে সংগঠনটির মতে, ভাড়া বাসা থেকে কর আদায়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক। কারণ নগরীর উচ্চমূল্যের আবাসনের বড় অংশ প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়, এ খাতে কার্যকর কর ব্যবস্থা আনতে রাজনৈতিক অঙ্গীকারভিত্তিক রাজস্ব সংস্কার প্রয়োজন।

ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে