রকেট, মঙ্গল রোভার ও চাঁদে বসতি স্থাপনের ধারণা পেল ৭–১০ বছর বয়সীরা

শিশুদের মহাকাশবিজ্ঞান শেখাল নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প

  • ঢাকার ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালে ৭–১০ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প
  • হাতে-কলমে কার্যক্রমে সৌরজগৎ, রকেট প্রযুক্তি, মঙ্গলগ্রহের রোভার ও চাঁদে বসতি স্থাপনের বিষয় শেখানো হয়
  • ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৫০টি স্কুলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের

শিশুদের মহাকাশবিজ্ঞান শেখাল নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প
৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৫  

শিশুদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীর ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের স্পেস সায়েন্স প্রোগ্রাম। এতে ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে মহাকাশবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ পেয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের শিক্ষামূলক উপকরণ এবং নাসা-উন্নয়নকৃত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (এসটিইএম) কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মহাকাশবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচিতে সৌরজগৎ, রকেট প্রযুক্তি, মঙ্গলগ্রহের রোভার, চাঁদে বসতি স্থাপন এবং মহাকাশবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। রকেটের কার্যপদ্ধতি, মঙ্গলগ্রহে রোবটের ব্যবহার এবং মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে কার্যক্রমগুলো শিশুদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

এতে অংশ নিয়ে হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে শেখার সুযোগ পায়।

বাংলাদেশে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের কমিউনিটি পার্টনার স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্কুল পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়াল।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা। নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের মতো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে নতুন কিছু জানার আগ্রহ, গবেষণার মানসিকতা এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি করে। আমরা চাই বাংলাদেশের শিশুরাও ছোটবেলা থেকেই মহাকাশবিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাক।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অন্তত ৫০টি স্কুলে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে চান তাঁরা।

ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপাল তাবিতা জহুর ইকবাল বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব বিকাশে হাতে-কলমে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের মতো আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষামূলক কার্যক্রম আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সঙ্গে এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বড় স্বপ্ন দেখা, নতুন কিছু আবিষ্কারের সাহস অর্জন এবং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে চান তাঁরা।

আয়োজকেরা জানান, নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্পের কার্যক্রমে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান, সৃজনশীল চিন্তা, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ কার্যক্রম দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশবিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়ালে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্প শিশুদের কাছে মহাকাশবিজ্ঞানকে সহজ, আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করে তোলার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখবে।

//ডিবিটেক/ আরআইও/এসএমপি/ এমআইএসটি//