ডা. মবিন খানের স্মরণে বিপিরোভারসেন নিয়ে সেমিনার

হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

  • হেপাটোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও চিকিৎসাশিক্ষায় অধ্যাপক মবিন খানের অবদান স্মরণ
  • বিপিরোভারসেন নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসাপদ্ধতির অগ্রগতি পর্যালোচনা
  • রোগীদের জন্য কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান

হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫১  

দেশে হেপাটোলজি বিভাগের বিকাশ, লিভার রোগের চিকিৎসা এবং চিকিৎসাশিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা উদ্ভাবনী ওষুধ বিপিরোভারসেন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগ।

৩১ অক্টোবর, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সেমিনারে অধ্যাপক মবিন খানের কর্মময় জীবন ও দেশের হেপাটোলজি চিকিৎসায় তার অবদান তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি হেপাটাইটিস-বি নিরাময়ের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি, গবেষণার অগ্রগতি এবং রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অধ্যাপক মবিন খানকে নিজের সরাসরি শিক্ষক ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে স্মরণ করে তিনি বলেন, এফসিপিএস সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অধ্যাপক মবিন খানের অনুপ্রেরণা তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী জানান, ১৯৮৩ সালে আইপিজিএমআরে ইন্টার্নশিপ করার সময় অধ্যাপক মবিন খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সে সময় অধ্যাপক মবিন খান অস্ট্রেলিয়া থেকে হেপাটোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছিলেন এবং হেপাটোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বদলি হলেও দুই বছর পর আবার আইপিজিএমআরে ফিরে এসে বিভাগটি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন।

সেমিনারের বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে বিএমইউর ভিসি বলেন, হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় একটি কার্যকর ওষুধ সামনে আসছে, যা একসময় অবিশ্বাস্য মনে হতো। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। তিনি অধ্যাপক মবিন খানের কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা এবং চিকিৎসাসেবায় নিবেদিত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন, অধ্যাপক মবিন খান প্রতিদিন সকাল ৭টায় হাসপাতালে আসতেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি প্রায় একশ রোগী দেখতেন। সারাদিন রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও গবেষণাই বেশি গুরুত্ব পেত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ।

অধ্যাপক শাহিনুল আলম আরও বলেন, অধ্যাপক মবিন খান হেপাটোলজি বিষয়ে নতুন সাবজেক্ট ও কোর্স চালু করেছেন এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে এ বিষয়ে বিভাগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি জানান, সেমিনারে একটি প্রটোকল নিয়ে আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনটি প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করতে হয়েছে।

বিপিরোভারসেন নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা

সেমিনারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এসকে নাজমুল হাসান। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘সাইলেন্সিং এইচবিভি, আনলকিং কিউর: দ্য প্রমিস অব বিপিরোভারসেন’।

এ ছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. ফরহাদ হোসেন ‘দ্য ফাংশনাল কিউর ট্রায়াল: বিপিরোভারসেন ভার্সেস পেগিলেটেড ইন্টারফেরন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন। এ সময় তিনি অধ্যাপক ডা. মবিন খানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডা. তানভীর আহমাদ এবং সঞ্চালনা করেন ডা. তাহরিনা মাহাবুব।

প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন বারডেমের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম আজম; চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ; শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল ফারুক; ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এবিএম শাকিল গনি; স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফজল করিম; বিএমইউর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ ও অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান এবং মুগদা মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান।

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেমিনারে অংশ নেন। অধ্যাপক ডা. মবিন খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি হেপাটাইটিস-বি চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তারা।

সেমিনার থেকে রোগীদের জন্য উন্নত, কার্যকর ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গবেষণা, চিকিৎসক-শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

//ডিবিটেক/এমভিআর/এসএমইপ/এমআইএসটি//