শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন
রাবিপ্রবিতে এআই প্রশিক্ষণ পেলেন ১৯২ জন
- রাবিপ্রবি ও এটুআইয়ের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
- ১৫৪ শিক্ষার্থী ও ৩৮ কর্মকর্তাসহ অংশ নেন মোট ১৯২ জন
- গবেষণা, একাডেমিক লেখা, ভাইব কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ
শিক্ষা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়াতে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের প্রম্পট তৈরি, গবেষণা, একাডেমিক লেখালেখি, এআই দিয়ে অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ এবং ভাইব কোডিংয়ের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরির প্রাথমিক দক্ষতা দেওয়া হয়।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ১৫৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৮ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১৯২ জন অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন সিদ্দিকী এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) ফাতেমা তুল জান্নাত, এটুআইয়ের হেড অব ফিউচার অব ওয়ার্ক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ উজ্জ্বল এবং হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম। রাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলম ও ড. তানজিম মাহমুদও প্রশিক্ষণে বক্তব্য দেন।
প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন এজেন্সি টু ইনোভেটের প্রোগ্রামার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ খন্দকার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার রিয়াজুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণে শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা কার্যকর প্রম্পট তৈরি, প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত এআই টুল নির্বাচন, গবেষণা ও একাডেমিক লেখালেখি এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি ও পেশাগত উন্নয়নে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হয়।
এ ছাড়া এআইনির্ভর অডিও ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি, উপস্থাপনা প্রস্তুত এবং ‘ভাইব কোডিং’-এর মাধ্যমে সহজ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও সেবা প্রদানের ধরন বদলে দিচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জন জরুরি।
তারা উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাক্রম ও কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
//ডিবিটেক/আরএেএইচএ/এসএমপি/এমভিএনও//





