অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি নুরুন্নিসা সিদ্দিকার

নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে কারাদণ্ডে জামায়াতের প্রতিবাদ

  • সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশে সাথী আক্তারকে গ্রেফতারের নিন্দা জামায়াতের
  • সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণকে অসহিষ্ণু বলে অভিহিত
  • চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে বিরোধী মত দমনের চেষ্টার অভিযোগ

নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে কারাদণ্ডে জামায়াতের প্রতিবাদ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩১  

ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করায় আটক নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। একই সঙ্গে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দিকা। 

২৮ অক্টোবর, বুধবার মহিলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু এমপির সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকের অনলাইন প্রকাশ ও মতামতকে দমন করতে প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহারের ঘটনা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, চব্বিশ-পরবর্তী দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তচিন্তার অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জামায়াত জোর দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করে এবং তার ভূমিকা পছন্দ না হলে সমালোচনাও করে। আটক সাথী আক্তারের সামাজিক মাধ্যমে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু এর ফলশ্রুতিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পরিস্থিতি তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। মহিলা জামায়াত মনে করে, এর মাধ্যমে ক্ষমতার অসহিষ্ণু আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যেখানে মূল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ভিন্নমতালম্বী নারীকে রাষ্ট্রের রোষানলের শিকার হতে হচ্ছে।

পূর্বে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর, সোমবার দুপুরে সাথী আক্তারকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামায়াত নেত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিরোধী মতকে স্তব্ধ করার এই মানসিকতা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্পেসে নাগরিকদের মুক্তমত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। অনলাইন মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

//ডিবিটেক/পিআর/এসপিএম/এফওই//