ওয়াই-ফাই কলিং: সুবিধা ও ঝুঁকি
ঘরের ভেতরে কিংবা অফিসে মোবাইল ফোনের সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রায়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। বহুতল ভবনের পুরু দেয়াল, বিশেষ ধরনের কাচ বা ধাতব কাঠামোর কারণে অনেক সময় মুঠোফোনে পুরো সংকেত বা সিগন্যাল পাওয়া যায় না। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে 'ওয়াই-ফাই কলিং' বা 'ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই' প্রযুক্তি।
এতে মোবাইল সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করেই সহজে ফোন কল করা এবং বার্তা পাঠানো সম্ভব হয়। অত্যন্ত সুরক্ষাবেষ্টনী বা এনক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কথা মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে পৌঁছায়। ফলে অপর প্রান্তের ব্যবহারকারীর ফোনে এই সুবিধা চালু না থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই কল আদান-প্রদান করা যায়।
সুবিধার পাশাপাশি যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে
ওয়াই-ফাই কলিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নেটওয়ার্কের দুর্বল এলাকায় স্পষ্ট ও পরিষ্কার আওয়াজে কথা বলার সুযোগ দেয়। এর জন্য বাড়তি কোনো অ্যাপের প্রয়োজন হয় না বা কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হয় না। ফোন থেকে সাধারণভাবেই কল করা যায়।
তবে এই প্রযুক্তির মূল দুর্বলতা হলো এটি পুরোপুরি ওয়াই-ফাই সংযোগের গতির ওপর নির্ভর করে। ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ধীরগতির হলে বা একসঙ্গে অনেকে ব্যবহার করলে কথার মান খারাপ হতে পারে, এমনকি কল কেটেও যেতে পারে।
এ ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ওয়াই-ফাই থেকে স্বাভাবিক মোবাইল নেটওয়ার্কে কল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
নিরাপত্তা ও এটি চালু করার উপায়
ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পরিবাহিত হওয়ায় উন্মুক্ত বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে কিছুটা সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটররা এটি সুরক্ষাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পরিচালনা করে।
নিরাপদ থাকতে ব্যবহারকারীদের ফোনের সফটওয়্যার সময়মতো হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুবিধাটি ব্যবহার করতে স্মার্টফোনের সংযোগ বা নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে 'ওয়াই-ফাই কলিং' সক্রিয় করতে হয়।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন উভয় ফোনেই এই সুবিধা চালু করা সম্ভব। জরুরি সেবায় সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সঠিক ঠিকানা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। দুর্বল নেটওয়ার্কের সমস্যা এড়াতে এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি হলেও ওয়াই-ফাইয়ের গুণগত মানের ওপরই নির্ভর করে এর সঠিক সুফল।
ডিবিটেক/বিএমটি





