এআই ও জিনোমিক্সে জোর

যবিপ্রবিতে অণুজীববিজ্ঞানের নতুন গবেষণা

  • মহামারি ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরা
  • জিনোমিক্স, এআই ও বায়োইনফরমেটিক্সে অণুজীববিজ্ঞানের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা
  • ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোস্টার ও মৌখিক উপস্থাপনা

যবিপ্রবিতে অণুজীববিজ্ঞানের নতুন গবেষণা
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৬  

জনস্বাস্থ্য, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অণুজীববিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘NextGen Microbiology 2: 2nd National Conference on Emerging Horizon of Microbiology’। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অণুজীববিজ্ঞানের সঙ্গে জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমন্বিত প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার  সকাল সাড়ে ১০টায় যবিপ্রবির অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বর্তমান বিশ্বের মহামারি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অণুজীববিজ্ঞানীদের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জাতীয় সম্মেলন তরুণ গবেষকদের নতুন চিন্তার বিকাশ এবং নতুন গবেষণার দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করবে।

আন্তর্জাতিক অণুজীববিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগকে সাধুবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রথাগত গবেষণাগারভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রকাশনা অর্জন সম্ভব হলেও তা সবসময় সরাসরি সমাজের কল্যাণে আসে না। তাই গবেষণার সমস্যা সমাজ থেকেই চিহ্নিত করে গবেষণাগারে তার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, অণুজীববিজ্ঞান এখন আর অণুজীবের প্রথাগত গবেষণায় সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক বিশ্বে এ শাখা জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অগ্রসর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিজ্ঞানচর্চা ও নতুন ভাবনার আদান-প্রদান অব্যাহত রাখতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টের সভাপতি ও সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. লতিফুল বারি, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো ও আইসিডিডিআর’বির ওয়ান হেলথ ল্যাবরেটরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনোয়ারা সুলতানা।

বক্তারা খাদ্যনিরাপত্তা, নিপা ভাইরাস ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে গবেষণাভিত্তিক তথ্য স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

সম্মেলনে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার ও মৌখিক উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন ও একাডেমিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান, সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. তানভীর ইসলাম। এ সময় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অণুজীববিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা ক্যাম্পেইন, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, অণুজীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অণুজীববিজ্ঞানবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে।

//ডিবিটেক/এনএইচজে/এমএসআই/বিটপ//