এআই জালিয়াতিতে ইতালির শীর্ষ ব্যাংকে ১০ কোটি ডলার চুরি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক শীর্ষ নির্বাহীদের ভুয়া পরিচয় ও কণ্ঠস্বর রূপান্তরের মাধ্যমে ইতালির সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ইন্তেস সাউপাওলো’-র প্রাইভেট ব্যাংকিং শাখা ‘ফিদোরাম’ থেকে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলার) হাতিয়ে নিয়েছে একদল আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী।
বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার সহযোগিতায় প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে।
জালিয়াতির কৌশল ও ভুয়া নির্দেশ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই জালিয়াতি চক্রের মূল নিশানা ছিলেন ফিদোরামের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি। তাঁকে ইন্তেস সাউপাওলোর মূল সিইওর নাম ভেঙে একটি ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে একটি জরুরি আন্তর্জাতিক লেনদেনে সহায়তার নির্দেশ ছিল।
এর পরপরই একটি নামজাদা আইনি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ অংশীদারের পরিচয় দিয়ে চেয়ারম্যানকে ফোন করা হয়। এআই ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির সাহায্যে হুবহু সেই আইনজীবীর কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে জালিয়াতি নিশ্চিত করা হয়।
নির্দেশটিকে আসল ভেবে চেয়ারম্যান মোলেসিনি তাঁর অর্থ বিভাগকে চীন ও হংকংয়ের বেশ কিছু বিদেশী অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
উদ্ধার তৎপরতা ও সাইবার ঝুঁকি
পরবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন টের পেয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবহিত করা হলে ইতালি, চীন ও পর্তুগালের যৌথ উদ্যোগে আংশিক অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকি নিখোঁজ অর্থ বিভিন্ন শেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের পর ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে পাচার করায় তা ট্র্যাকিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অভিযুক্ত না হলেও ইতালির মিলান প্রসিকিউটররা একজন অ-ইউরোপীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন।
করপোরেট ও ব্যাংকিং খাতে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





