যে ৫ কারণে আইফোন ১৭ প্রো ছেড়ে ১৮ প্রো কেনা উচিত নয়
সেপ্টেম্বর মাস এলেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের চোখ থাকে অ্যাপলের নতুন উন্মোচনের দিকে। বরাবরের মতো এবারও বাজারে এসেছে অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ, যেখানে আলাদাভাবে নজর কাড়ছে আইফোন ১৮ প্রো। সেই সঙ্গে রয়েছে আইফোন ডুও নামের সম্পূর্ণ নতুন একটি মডেল।
তবে সব আকর্ষণ ১৮ প্রোর দিকে থাকলেও, আগের বছরের আইফোন ১৭ প্রোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। আপাতদৃষ্টিতে নতুন প্রজন্মের এই ফোনটিতে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার যোগ করা হলেও, পুরোনো মডেলের তুলনায় এটি খুব বড় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে- এমনটি বলা কঠিন।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাবছেন, হাতে থাকা আইফোন ১৭ প্রো পরিবর্তন করে নতুন আইফোন ১৮ প্রোতে আপগ্রেড করা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে উত্তরটি হচ্ছে, এই মুহূর্তে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে নতুন মডেলে না যাওয়াটাই শ্রেয়। কারণ দুটি ফোনের মধ্যকার তফাত খুব একটা বড় নয় এবং আগের ফোনটি দিয়েই আরও দীর্ঘদিন অনায়াসে কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ডিজাইনে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন নেই
আইফোন ১৮ প্রোর নকশায় এমন কোনো বড় পরিবর্তন আনা হয়নি যা দেখে প্রথম দেখাতেই এটিকে আগের মডেল থেকে আলাদা করা যাবে। কেবল নতুন রঙের কারণেই দুটি ফোনের মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। এবার নতুন বারগান্ডি ও গ্লেসিয়াল রঙের পাশাপাশি একটি কালো শেডের মডেল আনা হয়েছে, যা বিগত মডেলে অনেকেরই পছন্দের তালিকায় ছিল।
তবে এই রঙের পরিবর্তনটুকু বাদ দিলে দুটি ফোনের সার্বিক গঠন ও নকশা প্রায় একই রকম। এমনকি আগের ১৭ প্রোর তুলনায় নতুন ১৮ প্রো ওজনে সামান্য কিছুটা ভারী, যা অনেকের কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
ডিজাইনে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন অবশ্য রয়েছে, যা সহজে চোখে পড়ে না। পর্দার নিচে গোপন ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহারের ফলে পর্দার ওপরের ‘ডাইনামিক আইল্যান্ড’ আকৃতিতে কিছুটা ছোট হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে ভালো একটি উন্নতি, তবে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় কোনো প্রভাব ফেলে না।
১৭ প্রোর আগের ডাইনামিক আইল্যান্ড ব্যবস্থাটি যেভাবে চমৎকার কাজ করত, এটিও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। তাই এটি একটি বাড়তি সুবিধা হলেও আপগ্রেড করার মতো কোনো প্রধান কারণ হতে পারে না।
পুরোনো মডেলটিতেও মিলবে দুর্দান্ত গতি
আইফোন ১৮ প্রোর উন্মোচনী আয়োজনে অ্যাপল সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিল এর পারফরম্যান্সের ওপর। নতুন এ২০ প্রো প্রসেসরটি তৈরি করা হয়েছে ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে, যা গতি ও সক্ষমতার দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী।
আগের এ১৯ প্রোর তুলনায় এতে থাকা অতিরিক্ত জিপিইউ কোর গ্রাফিক্সের পারফরম্যান্স প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত কাজ দ্রুত করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে দ্বিতীয় একটি নিউরাল ইঞ্জিন। কিন্তু বাস্তব জীবনে সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই গতির তারতম্য খুব একটা চোখে পড়ে না।
আইফোন ১৭ প্রো এখনো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতির ফোন। ভিডিও এডিটিং, ভারী গেম খেলা বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের মতো কাজে এ১৯ প্রো প্রসেসর এখনও অনায়াসে চমৎকার পারফরম্যান্স দিয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি পেশাদার আলোকচিত্রী না হন বা প্রতিনিয়ত প্রসেসরের ওপর চরম চাপ পড়ে এমন কাজ না করেন, তবে এক বছরের পুরোনো একটি প্রসেসর কোনোভাবেই পিছিয়ে পড়ার মতো নয়।
ক্যামেরায় মূল পরিবর্তন কেবল একটিতেই
চলতি বছরের প্রো মডেলে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি এসেছে এর মূল ক্যামেরায়। এই প্রথমবারের মতো অ্যাপল তাদের ওয়াইড-এঙ্গেল ক্যামেরায় পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার লেন্স ব্যবহার করেছে।
পেশাদার ডিএসএলআর ক্যামেরার মতো এখানেও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপারচার পরিবর্তন করে সেন্সরে আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি কম আলোতে ছবি ও ভিডিওর মান উন্নত করতে এবং ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা ঝাপসা হবে তা নিয়ন্ত্রণে বেশ সাহায্য করে।
তবে এই মূল ক্যামেরাটি ছাড়া পেছনের বাকি ক্যামেরাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আইফোন ১৮ প্রোতে আগের ১৭ প্রোর মতো একই আল্ট্রা-ওয়াইড এবং টেলিফোটো সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সামনের সেলফি ক্যামেরাও হুবহু একই রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অ্যাপল যে নতুন ফটোগ্রাফিক স্টাইলগুলো দেখিয়েছে, তার অনেকগুলোই সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে আগের মডেলেও চলে আসবে। ফলে কেবল ক্যামেরার কারণে পুরো ফোন বদলে ফেলা খুব একটা যুক্তিযুক্ত নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সফটওয়্যারে সমান সুবিধা
আইফোন ১৭ প্রোর ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই সর্বশেষ আইওএস ২৭ অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপলের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি 'অ্যাপল ইনটেলিজেন্স' এবং উন্নত ডিজিটাল সহকারী 'সিড়ি এআই'।
১৮ প্রো ও ১৭ প্রো—উভয় ফোনেই এই ফিচারগুলো একদম সমানভাবে কাজ করে। প্রসঙ্গভিত্তিক কথোপকথন, কণ্ঠস্বরের মান উন্নত করা, সঠিক ডিকটেশন এবং ছবির ফ্রেম বড় করার মতো নতুন সব সুবিধা ১৭ প্রোতেও একইভাবে সচল রয়েছে।
ভবিষ্যতে হয়তো অ্যাপল কেবল নতুন ১৮ প্রোর জন্য কিছু বিশেষ এআই ফিচার উন্মুক্ত করতে পারে, তবে এই মুহূর্তে সফটওয়্যারের দিক থেকে পুরোনো মডেলের ব্যবহারকারীরা কোনো অংশেই বঞ্চিত হচ্ছেন না।
নতুন আইফোন কাদের জন্য?
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সবারই আগ্রহ থাকে, আর দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ কিংবা অত্যাধুনিক ক্যামেরার প্রতি ঝোঁক থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁরা ইতিপূর্বে আইফোন ১৭ প্রো ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য ১৮ প্রোতে আপগ্রেড করা খুব একটা বড় পরিবর্তন আনবে না।
এটি মূলত তাঁদের জন্যই সেরা পছন্দ হতে পারে, যাঁরা অনেক পুরোনো কোনো মডেল (যেমন আইফোন ১৫ প্রো) ব্যবহার করছেন। সে ক্ষেত্রে নতুন নকশা, উন্নত জুম ও নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে তাঁরা তিন বছরের একটি বড় প্রযুক্তিগত উল্লম্ফন অনুভব করতে পারবেন।
কিন্তু ১৭ প্রোর ব্যবহারকারীদের জন্য আপাতত টাকা বাঁচিয়ে আগামী বছরের নতুন মডেলের জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি





