জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন: যা যা পরিবর্তন এলো

‎ঢাকা: ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ অধিকতর সংশোধন করে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নতুন সংশোধনীর ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের হলফনামা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি শিথিল ও সহজ হয়েছে। ‎বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন এ বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন […] The post জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন: যা যা পরিবর্তন এলো first appeared on Sarabangl

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন: যা যা পরিবর্তন এলো
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০০  

‎ঢাকা: ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ অধিকতর সংশোধন করে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নতুন সংশোধনীর ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের হলফনামা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি শিথিল ও সহজ হয়েছে।

‎বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন এ বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্নের বিস্তারিত তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা আগে ছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। হলফনামার সংযুক্তি-১ এর ১০ নম্বর ক্রমিকে বিশেষ দ্রষ্টব্য যুক্ত করে স্বজন ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

‎একইভাবে ফৌজদারি মামলায় জামিনে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। আগে জামিনে মুক্ত প্রার্থীদের আদালত থেকে জামিন লাভের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও এখন আর সেটি করতে হবে না। বিধিমালার সংযুক্তি-১ এর ৩ নম্বর ক্রমিকের (খ) অংশে থাকা ‘সংযুক্তি করিতে হইবে’ শব্দগুলোর জায়গায় ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে কারাঅন্তরীণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দলিলাদি সত্যায়ন করার নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া ৩ নম্বর ক্রমিকের (গ) অংশে একটি নতুন ব্যাখ্যা যোগ করে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’ বলতে কেবল সেই আসামিকে বোঝাবে যার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠিত (Charge framed) হয়েছে।

‎প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে হলফনামার তৃতীয় অংশে প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও স্পষ্টতা আনা হয়েছে। আগে কার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও এখন প্রার্থী নিজে অথবা তার নিয়োজিত এজেন্টের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করার বিধান স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ৯ নম্বর বিধির ১ নম্বর উপ-বিধিতে থাকা একটি পুরনো করণিক ভুল শোধরানো হয়েছে। মূলত ‘না’ প্রতীক সংক্রান্ত তালিকায় ভুলবশত নিষেধাজ্ঞার যে উল্লেখ ছিল, নতুন সংশোধনীতে সেই বিভ্রান্তিকর অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

‎এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে স্বজনদের সম্পদের তথ্য এবং জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া নিয়ে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সিইসির সাথে বৈঠক করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। দলগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন প্রথমে এক পরিপত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো ঐচ্ছিক হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছিল। পরিপত্র জারির দীর্ঘ ৯ মাস পর এবার স্থায়ীভাবে বিধিমালা সংশোধন করে সেই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো আইনি কাঠামোয় যুক্ত করা হলো।

The post জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন: যা যা পরিবর্তন এলো first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.