যবিপ্রবিতে অণুপুষ্টি ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা উপস্থাপন

কিশোরীদের অণুপুষ্টি ঘাটতি নিরসনে নীতি প্রণয়নের আহ্বান

কিশোরীদের অণুপুষ্টি ঘাটতি নিরসনে নীতি প্রণয়নের আহ্বান
১১ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:০৬  

বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি, এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর হস্তক্ষেপ ও নীতিগত করণীয় নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ আগস্ট, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি: প্রমাণ, হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত প্রভাব’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ এবং যবিপ্রবি রিসার্চ সেল যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রির পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ।

উপস্থাপনায় অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসহ প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির ঘাটতি, এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করা সম্ভব—ড. ফারুক আহমেদ তা প্রমাণ করেছেন। গবেষণার মানোন্নয়ন ও সফলতার জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে এবং সরকারের নীতি প্রণয়নে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত উপাত্তের ভিত্তিতে মানসম্পন্ন পাঠ্যবই রচনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, কৈশোরকালীন মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষম, যারা একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।

গবেষণালব্ধ তথ্য ও সুপারিশগুলো সরকারের নীতি প্রণয়নে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর আহ্বান জানান অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান এবং ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

সেমিনারে আহ্বায়কের বক্তব্য দেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার। এছাড়া বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজ উদ্দীন মনির।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
//ডিবিটেক/ এমএনএইচ/এমএসআই//