এনভিডিয়া ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফানের অকাল প্রয়াণ: সিলিকন ভ্যালি থেকে বুয়েটে শোকের ছায়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশ্বখ্যাত চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (NVIDIA)-র সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনি। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই প্রযুক্তিবিদের অকাল প্রয়াণে বুয়েট, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (Georgia Tech), এনভিডিয়া সহ দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) গবেষণা মহলে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সহপাঠী ও শিক্ষক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের গভীর শোক ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নানা আলোচনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শিক্ষা ও কৃতিত্বপূর্ণ গবেষণাজীবন
ড. ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট শিক্ষক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তাহমিদ আল-হুসাইনির ছেলে। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জর্জিয়া টেক (Georgia Tech) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
গবেষণাজীবনে তিনি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Interpretable Machine Learning in Healthcare), বায়োমেডিক্যাল ডেটা অ্যানালিসিস, টেক্সট সামারাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ডোমেইন নলেজ ব্যবহারের মতো জটিল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর লেখা গবেষণাপত্র বিশ্ববিখ্যাত শীর্ষ সম্মেলন NeurIPS, SIGIR, CIKM, ICASSP, BioNLP এবং MLHC-তে প্রকাশিত হয়েছে।
পিএইচডি শেষে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি খাতের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় (NVIDIA) সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় AI প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছিলেন।
অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনগাথা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক তাদের অফিসিয়াল নিউজে ড. ইরফান আল-হুসাইনি এবং তাঁর স্ত্রী ড. ফাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনাকে নিয়ে একটি বিশেষ ফিচার প্রকাশ করে। বুয়েটে একই সমসাময়িক হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া টেকে পড়ার সময় তাঁদের পরিচয় হয়, ২০২২ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২৪ সালে একই সাথে পিএইচডি সমাবর্তন গ্রহণ করেন। শিক্ষা ও যৌথ ক্যারিয়ারে তাঁদের পথচলা বিশ্বজুড়ে তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
সহপাঠীদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক মেধার পাশাপাশি তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, ধর্মপ্রাণ এবং একজন দক্ষ ফুটবলার, যিনি বুয়েটে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে আইইইই (IEEE) সিগন্যাল প্রসেসিং কাপ প্রতিযোগিতাতেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
//ডিবিটেক/এফবিপি/এসএমই//





