মার্কিন এআই মডেল দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাচ্ছে চীনা সামরিক গবেষকরা

মার্কিন এআই মডেল দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজাচ্ছে চীনা সামরিক গবেষকরা
৩ আগষ্ট, ২০২৬ ১০:০৪  

মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মডেল ব্যবহার করে নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে চীন। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের আউটপুট বা ফলাফল কাজে লাগিয়ে নজরদারি, সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন পরিচালনা ও কৌশলগত অভিযানের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তুলছে চীনা সামরিক গবেষকরা। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেমস্টাউন ফাউন্ডেশনের সংগৃহীত তথ্য এবং ৮০টিরও বেশি চীনা একাডেমিক গবেষণাপত্র ও পেটেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো ব্যবহার করছে। 

মডেল ডিস্টিলেশনের মাধ্যমে শর্টকাট
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা সামরিক গবেষকরা মূলত ‘মডেল ডিস্টিলেশন’ নামক একটি প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করছেন। এই প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমের আউটপুট ব্যবহার করে তুলনামূলক ছোট এবং বিশেষায়িত মডেল তৈরি করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে খুব কম কম্পিউটিং শক্তিতেই পরিচালনা করা সম্ভব। 

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চিপ ও প্রযুক্তি আমদানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় চীনা প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন মডেলগুলোকে প্রযুক্তিগত অন্তর্দৃষ্টির উৎস এবং মার্কিন ব্যবধান কমিয়ে আনার শর্টকাট হিসেবে দেখছে। গবেষণাপত্রগুলোতে দেখা গেছে, কেবল সঠিক উত্তর জেনেই ক্ষান্ত হয়নি চীনা গবেষকরা, বরং পশ্চিমা মডেলগুলোর জটিল চিন্তাধারা বা সুপ্ত কৌশলগত যুক্তি প্রক্রিয়াকেও আত্মস্থ করার চেষ্টা চালিয়েছে তারা। 

সংবেদনশীল কোড ও সামরিক ব্যবহারের চিত্র
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেইজিংভিত্তিক সামরিক গোয়েন্দা ও সাইবার যুদ্ধ ইউনিট ‘পিএলএ ইউনিট ৯৬৯৪১’ সংবেদনশীল সামরিক সোর্স কোড প্রক্রিয়াজাত করতে ওপেনএআই-এর মডেল ব্যবহার করেছে। তৃতীয় পক্ষের মডেলগুলো গোপনীয় তথ্য সরাসরি হ্যান্ডেল করার উপযুক্ত না হওয়ায়, তারা মার্কিন মডেলের সাহায্য নিয়ে সফটওয়্যার কোডের সারাংশ তৈরি করে এবং পরে নিজস্ব সুরক্ষিত সামরিক নেটওয়ার্কে একটি দেশীয় মডেলকে প্রশিক্ষণ দেয়। 

এ ছাড়া উত্তর চীন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অ্যানথ্রপিকের মডেল ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ ও কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য কৃত্রিম প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, চীনের একাডেমি অফ মিলিটারি সায়েন্সেস সামুদ্রিক মহড়ায় ড্রোন, জাহাজ এবং মানবহীন সাবমেরিনের লক্ষ্য নির্ধারণী কার্যকারিতা বাড়াতে এই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। 

নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আসন্ন আলোচনার আগে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের অননুমোদিত ব্যবহারের মাধ্যমে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে পাশ কাটানো হচ্ছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এআই ক্ষেত্রে একতরফা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স