স্বপ্ন ও দ্রোহের সিলিকন রিভার: প্রযুক্তি বিপ্লবে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

গ্যারেজ নয়, স্বপ্নই ইতিহাস বদলায়: সিলিকন ভ্যালি থেকে সিলিকন রিভার

গ্যারেজ নয়, স্বপ্নই ইতিহাস বদলায়: সিলিকন ভ্যালি থেকে সিলিকন রিভার
২ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:৩৫  

অনেকেরই ধারণা, পৃথিবীর বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে বিপুল পুঁজি, বিশ্বমানের অবকাঠামো কিংবা একদম অনুকূল ও নিখুঁত পরিবেশে। কিন্তু বাস্তবতার ইতিহাস ঠিক উল্টো। বিশ্ব ইতিহাস আমাদের স্পষ্ট দেখায়, প্রতিটি প্রযুক্তি বিপ্লবের সূচনা হয়েছে সীমাহীন অনিশ্চয়তা, সীমিত সম্পদ এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য সাহস থেকে। গ্যারেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি কিংবা ছোট্ট একটি কামরা কখনোই সাফল্যের আসল রহস্য ছিল না। মূল রহস্য লুকিয়ে ছিল মানুষের কল্পনাশক্তি, অবিরত অধ্যবসায় এবং পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার সাহসের মধ্যে।

অ্যাপল (Apple)-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে, স্টিভ জবসের পরিবারের একটি সাধারণ গ্যারেজে। প্রাথমিক মাত্র ১,৩০০ ডলার পুঁজি জোগাড় করতে স্টিভ জবস তাঁর প্রিয় ভক্সওয়াগেন ভ্যানটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, আর স্টিভ ওজনিয়াক বিক্রি করেছিলেন তাঁর পছন্দের এইচপি (HP) বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটরটি। সেখানে কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছিল না, ছিল না কোনো সরকারি মেগা প্রকল্প কিংবা বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। ছিল কেবল একটি সুদৃঢ় বিশ্বাস—একদিন প্রতিটি মানুষের হাতে নিজস্ব একটি কম্পিউটার থাকবে। আজ অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ও প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

গুগল (Google)-এর সূচনা হয়েছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের একটি গবেষণা প্রকল্প হিসেবে। দামি ও শক্তিশালী সার্ভার কেনার সামর্থ্য তখন তাদের ছিল না। তাই সস্তা যন্ত্রাংশ জুড়াতালি দিয়ে তারা নিজস্ব সার্ভার বানিয়েছিলেন, এমনকি সেই হার্ডড্রাইভ রাখার কাঠামোটি তৈরি করেছিলেন শিশুদের ‘লেগো’ (LEGO) খেলনার ব্লক দিয়ে! তাদের লক্ষ্য কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি হওয়া ছিল না; লক্ষ্য ছিল একটি জটিল ও কঠিন সমস্যার নিখুঁত সমাধান বের করা। সেই সততা ও গবেষণাই আজকের পরাক্রমশালী গুগল।

অ্যামাজন (Amazon) শুরু হয়েছিল জেফ বেজোসের ভাড়া করা একটি গ্যারেজে। তাঁর প্রথম দিকের অফিসের কাজের ডেস্কগুলো বানানো হয়েছিল সাধারণ কাঠের দরজা দিয়ে! তিনি অনলাইনে বই বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, কারণ তৎকালীন সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করার জন্য ওটাই ছিল সবচেয়ে সহজ খাত। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সুদূরপ্রসারী—ডিজিটাল বাণিজ্যের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ পুনঃনির্মাণ করা। আজ অ্যামাজন কেবল কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম নয়; তারা ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও গ্লোবাল লজিস্টিকসের বৈশ্বিক নিয়ন্তা।

মেটা বা ফেসবুক (Facebook)-এর জন্ম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের এক চিলতে কক্ষে। কোনো বিশাল ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা পুঁজি নিয়ে মার্ক জাকারবার্গ নামেননি। ছিল কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগের সহজ সমাধান, যা মানুষ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সাধারণ সমাধান বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি এনভিডিয়া (NVIDIA)-র গল্পটিও সমান অনুপ্রেরণাদায়ক। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতারা কোনো বিলাসবহুল করপোরেট বোর্ডরুমে নয়, বরং ডেনিস (Denny’s) নামক একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর নাস্তার টেবিলে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন। তখন খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন যে, গ্রাফিক্স প্রসেসর (GPU) একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে। কিন্তু তারা নিজেদের ভিশনে বিশ্বাস হারাননি।

একইভাবে মাইক্রোসফট (Microsoft) এমন এক সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের (PC) আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সন্দেহ ছিল। বিল গেটস ও পল অ্যালেনের স্বপ্ন ছিল: “প্রত্যেক ডেস্কে এবং প্রতিটি ঘরে একটি করে কম্পিউটার থাকবে।” সে সময় বিষয়টিকে চরম অবাস্তব মনে হলেও, আজ সেটিই বাস্তবতা।

ইতিহাস আমাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি সত্য শেখায়:

  • অ্যাপল কেবল গ্যারেজের কারণে সফল হয়নি
  • গুগল কেবল লেগো ব্লক দিয়ে সার্ভার বানানোর কারণে বিশ্বের শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন হয়নি
  • কিংবা অ্যামাজন কাঠের দরজা কেটে টেবিল বানিয়েছিল বলেই বিশ্বখ্যাত কোম্পানি হয়ে যায়নি

তারা সফল হয়েছে কারণ—তারা এমন এক ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পেরেছিল, যা অন্যরা তখন ধারণাও করতে পারেনি। তাইওয়ান (TSMC) যেমন সেমিকন্ডাক্টর ‘ফাউন্ড্রি’ কনসেপ্ট এনে বৈশ্বিক চিপ শিল্পে নিজেদের অপরিহার্য করে তুলেছে, কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া যেমন শুরু থেকেই মেমোরি চিপ প্রযুক্তিতে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

যারা ভারতের আইটি আধিপত্যের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশের ‘সিলিকন রিভার’ (Silicon River) স্বপ্নের অসম্ভাব্যতা নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করেন, তাদের জেনে রাখা ভালো—কষ্টসহিষ্ণু ও দক্ষ প্রোগ্রামিং জনশক্তি হলো ভারতের ব্র্যান্ড। তারা যেকোনো করপোরেট কাঠামোর ছাঁচে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

কিন্তু রক্ত দিয়ে রক্তিম ইতিহাস লেখা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা ভিন্ন! তাদের যে জেদ, অহংকার, অপ্রতিরোধ্য ঘাউরামি, এমনকি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মারামারি আর রাজনীতি নিয়ে তীব্র আবেগ—আমাদের সেই দ্রোহ ও আগুনকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের কাজ হবে একদম নতুন প্রোডাক্ট, সার্ভিস ও কনসেপ্ট তৈরি করে সেগুলোর বৈশ্বিক মালিকানা (Ownership) নিজেদের হাতে নেওয়া। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড হবে: স্বল্প খরচে ও দ্রুততম সময়ে যেকোনো ইউনিক ‘আইডিয়া’কে সফল ‘প্রোডাক্টে’ রূপান্তর করার ক্ষমতা।

বাংলাদেশের আজ প্রয়োজন হাজার হাজার গ্যারেজ, গবেষণাগার, দেশীয় স্টার্টআপ, ডিজাইন সেন্টার, উদ্ভাবনী প্রকৌশলী দল, সাহসী তরুণ এবং একটি বলিষ্ঠ জাতীয় স্বপ্ন। উবার (Uber) দেখে আমরা ‘পাঠাও’ বানিয়েছি সত্য; কিন্তু এখন আমাদের চিন্তা করতে হবে উবারের চেয়েও উন্নত ভার্সন কী হতে পারে! কম জ্বালানি, স্বল্প খরচ, পরিবেশবান্ধব, দ্রুত ও শতভাগ নিরাপদ রাইড-শেয়ারিং মডেল নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

একটি জাতি তখনই রূপান্তরিত হয়, যখন তার নাগরিকেরা নিরাশ হয়ে প্রশ্ন করা বন্ধ করে—“এখানে কেন হয় না?”—বরং বুক চিতিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে—“কেন হবে না?”

তাহলে সিলিকন ভ্যালি কীভাবে তৈরি হলো?
অনেকে মনে করেন, সিলিকন ভ্যালি সফল হয়েছে কারণ ক্যালিফোর্নিয়া ধনী ছিল। কিন্তু এটি অ্যাকিউরেট নয়।
১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত বর্তমান সিলিকন ভ্যালি ছিল মূলত ফলের বাগানের অঞ্চল, যার নাম ছিল Valley of Heart’s Delight। এপ্রিকট, চেরি ও জলপাইয়ের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত ছিল, মাইক্রোচিপের জন্য নয়।
পরিবর্তনের সূচনা হয় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রেডেরিক টারম্যান-এর হাত ধরে (খেয়াল করবেন ইনি একজন অধ্যাপক)। তিনি তাঁর ছাত্রদের শুধু চাকরি খুঁজতে বলেননি; নতুন কোম্পানি গড়তে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই ছাত্রদের মধ্যেই ছিলেন বিল হিউলেট ও ডেভ প্যাকার্ড, যারা পরে Hewlett-Packard প্রতিষ্ঠা করেন।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য Stanford Research Park গড়ে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার একই ইকোসিস্টেমে কাজ করতে শুরু করে।  এরপর আসে Shockley Semiconductor। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বিখ্যাত Traitorous Eight প্রতিষ্ঠা করেন Fairchild Semiconductor। আর Fairchild থেকেই জন্ম নেয় Intel, AMD, National Semiconductor-সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ, সিলিকন ভ্যালির জন্ম কোনো একক কোম্পানির মাধ্যমে নয়। এটি তৈরি হয়েছে একটি ইকোসিস্টেম থেকে।
বাংলাদেশের আজকের অবস্থান
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ বাংলাদেশের হাতে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা Apple, Google কিংবা NVIDIA-এর প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে ছিল না।
আজ বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০-এরও বেশি প্রকৌশলী স্নাতক হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে রয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক পেশাজীবী, যারা বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি, RISC-V, অনলাইন শিক্ষা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখন সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেককে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, যদি তারা এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পৃথিবী বদলে দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
কারণ কি আর কেউ পারেনি? পারে নাই কেন?
কারণ শুধু মেধাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি ইকোসিস্টেম। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকার, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন।
প্রয়োজন এমন একটি জাতীয় উদ্দেশ্য, যা তরুণদের বলে, “তোমাদের কাজ শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়া নয়; একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া।”
এখানেই সিলিকন রিভারের দর্শন: Silicon River কোনো সংগঠনের নাম নয়।
এটি একটি জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আন্দোলন।
যেমন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিলিকন ভ্যালির বীজ বপন করেছিল, তেমনি BSIA এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে Silicon River।
যেমন Fairchild Semiconductor থেকে অসংখ্য নতুন কোম্পানির জন্ম হয়েছিল, তেমনি আজকের বাংলাদেশি তরুণদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে Silicon River। 
যেমন সিলিকন ভ্যালি বিশ্বজুড়ে প্রতিভাকে একত্র করেছিল, তেমনি Silicon River বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শিল্পসংযোগ এবং সুযোগকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করছে।
এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রোডশো, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প অংশীদারিত্ব, বৈশ্বিক ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, National Semiconductor Symposium, BEAR Summit, BEAR to CES উদ্যোগ এবং আরও বহু কার্যক্রম।
প্রতিটি উদ্যোগ আলাদা মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো মিলে তৈরি করছে বাংলাদেশের আগামী প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম।
আমাদের লক্ষ্য সিলিকন ভ্যালিকে অনুকরণ করা নয়।  আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পরিচয়ে একটি নতুন উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। সিলিকন ভ্যালির শক্তি ছিল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। সিলিকন রিভারের শক্তি হবে জাতীয় উদ্দেশ্য, তরুণ জনগোষ্ঠী, বৈশ্বিক প্রবাসী নেটওয়ার্ক, জ্ঞান, গবেষণা এবং সম্মিলিত নেতৃত্ব।
সিলিকন ভ্যালি বিশ্বকে কম্পিউটিংয়ের নতুন যুগ উপহার দিয়েছে। সিলিকন রিভারের স্বপ্ন, বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োইলেকট্রনিক্স এবং ডিপ-টেকের মাধ্যমে বিশ্বের সমস্যার সমাধান তৈরি হবে। যাতে সবাই আমাদের উপরে নির্ভর করে এই বিষয়গুলোতে।
ইনশাআল্লাহ এটাই হবে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, বৈশ্বিক শক্তিশালী অবস্থান এর অন্যতম ভিত্তি। আর জাতীয় পর্যায়ে সেলফ গভর্নেন্স । জনগণ চাইলে এক হয়ে অনেক কিছু করতে পারে ইনশাআল্লাহ।

এগুলো কোনো ফাঁকা বুলি বা রোমান্টিক কথা নয়। জীবন ও ইতিহাস থেকে নেওয়া শিক্ষা থেকেই এই যৌক্তিক সত্য উঠে এসেছে—যা আমাদের দেশের তথাকথিত ভীরু-কা পুরুষদের নেই। তাদের অভাব সাহসের, অভাব অদম্য ইচ্ছাশক্তির, উদ্যমের এবং অমানুষিক পরিশ্রম করার সাধ্য ও সাধনার।

মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

পুনশ্চ: গত এক সপ্তাহে দেশের মূলধারার সংবাদপত্রগুলো যেন সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ের লেখায় সয়লাব হয়ে গেছে! হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে সবাই সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ বনে গেছেন—ব্যারিস্টার, সাবেক এমপি, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, পিএইচডি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বহু সম্মানীয় শিক্ষক-অধ্যাপক। অথচ এদের অনেকের সঙ্গেই সরাসরি সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ের দূরতম কোনো একাডেমিক বা প্রায়োগিক সম্পর্ক নেই! যার যেভাবে মনে আসছে, সেভাবেই অনলাইন ও পত্রিকায় বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও বাধ্য হয়ে তা পড়ছি ও শুনছি। কেউ প্রগাঢ় জ্ঞান দিচ্ছেন, কেউবা হালকা কথার তর্ল গড়াচ্ছেন। সেলুকাস! হে আল্লাহ, আমাদের রক্ষা করো!


লেখকঃ চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার; অধ্যাপক, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।