ক্যাসপারস্কির গবেষণায় জেন জিদের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারনেট অভ্যাসের তথ্য প্রকাশ

জেন জি অনলাইনে সক্রিয় হলেও সাইবার নিরাপত্তায় পিছিয়ে

  • জেন জি অনলাইনে সক্রিয় থাকলেও নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব রয়েছে
  • ৫২ শতাংশ জেন জি সাইবার হামলার শিকার বলে তথ্য প্রকাশ
  • সাইবার সচেতনতা বাড়াতে ক্যাসপারস্কি এনেছে নতুন ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম

জেন জি অনলাইনে সক্রিয় হলেও সাইবার নিরাপত্তায় পিছিয়ে
২ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:৪৬  

২ আগস্ট, রবিবার: অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সময় কাটালেও জেনারেশন জি বা জেন জি এর অনেকেই এখনো প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেননি বলে জানিয়েছে গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ জেন জি অনলাইনে অফলাইনের চেয়ে বেশি সময় কাটান এবং ৬৭ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রধানত স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ জেন জি নিজেদের ডিজিটাল জগতে চলাফেরায় আত্মবিশ্বাসী মনে করলেও, মাত্র ২৮ শতাংশ মনে করেন তাদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নত পর্যায়ের। মাত্র ২৭ শতাংশ নিয়মিত স্মার্টফোনে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন, যা অন্যান্য প্রজন্মের তুলনায় কম। একই সঙ্গে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তারা তুলনামূলকভাবে কম সচেতন।

এর ফলে ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। জরিপে অংশ নেওয়া জেন জিদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন, যা তাদের ডিভাইস, অনলাইন অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং ১২ শতাংশ তাদের গেমিং অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ৩৮ শতাংশ ব্যবহারকারীর ফোনে ছবি ও ব্যক্তিগত নথি রয়েছে এবং ৩০ শতাংশ তাদের পাসওয়ার্ড ও লগইন তথ্য স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করেন। তবে মাত্র ২৮ শতাংশ নিয়মিত তথ্যের ব্যাকআপ নেন। ক্যাসপারস্কির পরামর্শ হলো—নিরাপদ থাকতে নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ও ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত। তরুণদের সচেতন করতে প্রতিষ্ঠানটি ‘কেস ৪০৪’ নামে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম চালু করেছে।

ক্যাসপারস্কির কনজ্যুমার প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরিনা ইয়ারমিলোভা বলেন, “জেন জি ডিজিটাল পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, তাই প্রযুক্তি ব্যবহার তাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য মানেই সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা নয়। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারা আর প্রতারণা শনাক্ত করা, নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা করা বা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা—এগুলো এক বিষয় নয়। আমাদের গবেষণা বলছে, মেসেজিং, গেমিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মতোই সাইবার নিরাপত্তার অভ্যাসও দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠতে হবে।”
//ডিবিটেক/ আরআই/ আইএমইউ//