আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় এমআইএসটির বড় সাফল্য

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

  • ‘মেট রোভ ২০২৬’-এ ১৮ দেশের ৮৮টি দলকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমআইএসটি
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গবেষণায় সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন
  • সেমিকন্ডাক্টর ও নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী
২ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:২৫  

আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ‘মেট রোভ প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১ আগস্ট, রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ অভিনন্দন জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং উদ্ভাবনী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের উদ্ভাবিত আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রদর্শনী করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য প্রশংসার পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, সরকারপ্রধান সাক্ষাৎকালে বলেছেন—তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধশিল্প, আসবাবশিল্প ও প্রসাধনী শিল্পের মতো নতুন নতুন সম্ভাবনাময় খাত শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধশিল্প, আসবাবশিল্প ও প্রসাধনীসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করা এবং নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী সরকারের স্টার্ট-আপ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এ খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।  দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরে গত ২৩ থেকে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে এমআইএসটি প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রানারআপ এবং কানাডা তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
//ডিবিটেক/ জেএনএন/ এমএসআই//