ধানের লবণাক্ততা সহনশীলতা নিয়ে গবেষণায় জাতীয় পর্যায়ে সেরা তিন শিক্ষার্থী

বিইউপির গবেষণা প্রতিযোগিতায় বাকৃবির চ্যাম্পিয়ন

বাকৃবির চ্যাম্পিয়ন দল, ধানের লবণ চাপ গবেষণা, জাতীয় গবেষণা প্রতিযোগিতা

বিইউপির গবেষণা প্রতিযোগিতায় বাকৃবির চ্যাম্পিয়ন
১৭ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:০০  

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ‘পঞ্চম ন্যাশনাল রিসার্চ প্রজেক্ট কনটেস্ট-২০২৬’-এর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন সদস্যের গবেষণা দল।

১৬ আগস্ট,  রবিবার ঢাকায় বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিইউপি রিসার্চ সোসাইটির আয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বাকৃবির চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাশমিন ফেরদাউস এবং একই অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চপল কুন্ডু ও মুশফিকুর ইবনে জাহিদ।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ২৫০টি গবেষণার সারাংশ জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৩২টি গবেষণা চূড়ান্ত উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়।

চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত দলগুলোর সদস্যরা বিচারকমণ্ডলীর সামনে নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন করেন। গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা, উপস্থাপনার মান এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাকৃবির দলটি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হয়।

প্রতিযোগিতায় দুটি পৃথক বিভাগ ছিল—রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার এবং ক্রিটিক্যাল অ্যাসে রাইটিং। বাকৃবির দলটি রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার বিভাগের ‘রিসার্চ ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়।

চূড়ান্ত পর্বে দলটি ‘অ্যাক্টিভেশন অফ অটোফ্যাগি মিটিগেটেড দ্য সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। গবেষণাটি বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইফেক্টস অফ অটোফ্যাগি অ্যাক্টিভেটর অ্যান্ড ইনহিবিটর অন সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ প্রকল্পের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়।

প্রকল্পটির প্রধান গবেষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ শাকিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থী ওই প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

বিজয়ী দলের সদস্য নাশমিন ফেরদাউস বলেন, গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই তারা ড. মো. আরিফ শাকিলের কাছে গিয়ে স্নাতক পর্যায়েই গবেষণায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি তাঁর গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ দেন।

নাশমিন বলেন, প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি থেকে চূড়ান্ত উপস্থাপনা পর্যন্ত শিক্ষক ও গবেষণা দলের সদস্যরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

ধানের চারা পর্যায়ে লবণ চাপের প্রভাব এবং অটোফ্যাগির ভূমিকা নিয়ে করা এই গবেষণা কৃষি বিজ্ঞানে উদ্ভিদ সহনশীলতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে সামনে এনেছে। জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য স্নাতক পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

//ডিবিটেক/ ডিএমও/ এমআইএস//