পিএনআর দক্ষতায় সেমিকন্ডাক্টর ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি

‘ডেভিয়েশন’ চ্যাম্পিয়ন ভিএলএসআইথন ৩.০

  • ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬ দল, ২০৬ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
  • শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল প্লেস অ্যান্ড রাউট।
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেভিয়েশন’ চ্যাম্পিয়ন, ভলটেক্স প্রথম রানার্সআপ।

‘ডেভিয়েশন’ চ্যাম্পিয়ন ভিএলএসআইথন ৩.০
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৮  

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিশ্বজুড়ে তরুণ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ বাড়ছে। এই শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে আয়োজিত ভিএলএসআই-নির্ভর চিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতা ‘ভিএলএসআইথন ৩.০’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘ডেভিয়েশন’।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর উল্কাসেমি ঢাকা ডিজাইন সেন্টারে ভিএলএসআইথন ৩.০-এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। উল্কাসেমির আয়োজনে উল্কাসেমি ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ইউভিটিআই) সঙ্গে যৌথভাবে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) সহায়তায় এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬টি দল ও মোট ২০৬ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ১০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। সমস্যা সমাধানের উপস্থাপনা শেষে সেরাদের মধ্য থেকে তিনটি দলকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

চ্যাম্পিয়ন ‘ডেভিয়েশন’ দলের সদস্য মো. রাকিব হাসনাত ও মো. শাহরিয়ার খান। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভলটেক্স’ দল। দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেনসিটি ডিমনস’ দল।

শিল্পের চাহিদায় পিএনআর

আয়োজকেরা জানান, ভিএলএসআইথন মূলত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যে ডোমেইনে দক্ষ জনবলের চাহিদা বেশি, সেটিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় তাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘প্লেস অ্যান্ড রাউট’ বা পিএনআর ডোমেইনে।

মালয়েশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে পিএনআর দক্ষতার জনবলের চাহিদা বাড়ছে। শিল্পের এই চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়েই এবারের ভিএলএসআইথনের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান।

এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বাস্তব কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে পারেন এবং চাকরির বাজারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পান।

ভিএলএসআইথনে একাডেমিক পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রয়োগের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পান বলে আয়োজকদের দাবি।

আয়োজকেরা আরও জানান, ভিএলএসআইথনে বিজয়ী বা অংশগ্রহণকারী অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে উল্কাসেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

পরীক্ষা থেকে বাস্তব সমস্যা সমাধান

ভিএলএসআই নিয়ে এটিই প্রথম সেমিকন্ডাক্টর-সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতা বলে জানান আয়োজকেরা। প্রতিযোগিতার শুরুতে ১০৬টি দলকে সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এরপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ইডিএ টুল ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সেরা ১০টি দলকে পরবর্তী ধাপের কেস সলভিং ও উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. নজরুল ইসলাম, এআইইউবির উপাচার্য সাইফুল ইসলাম এবং উল্কাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, একাডেমিয়া ও শিল্পের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে পেশা গড়তে আগ্রহী করবে।

মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেন, ভিএলএসআইথন একাডেমিক পড়াশোনা ও শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সেতু তৈরি করছে। দেশে ভিএলএসআইথনে অংশগ্রহণ করা অনেক প্রতিযোগীই এখন উল্কাসেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে কর্মরত।

বিজয়ীদের অভিজ্ঞতা

চ্যাম্পিয়ন দল ডেভিয়েশনের সদস্য মো. রাকিব হাসনাত ও মো. শাহরিয়ার খান। মো. রাকিব হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিজেদের আগ্রহ থেকে এখানে অংশ নিয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভিএলএসআই নিয়ে কোর্স না থাকলেও এখানে আসার জন্য আমরা নিজেরা আগ্রহ থেকে শিখেছি। আমরা আরও কাজ শিখতে চাই। আমরা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।’

প্রথম রানার্সআপ ভলটেক্সের সদস্য মেহেদী করিম ও এসএম মঈন হক। মেহেদী করিম বলেন, ‘সামনে সেমিকন্ডাক্টর খাতে কাজের সুযোগ অনেক। সেই সুযোগে এমন প্রতিযোগিতা আমাদের দক্ষতা বাড়াতে ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ জয় করতে সহায়তা করবে। আমরা ক্লাস বা ল্যাবে যা শিখি, এই প্রতিযোগিতায় তা বাস্তবে ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছি। দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত আরও বড় হবে, সেই লক্ষ্যে আমরা এই খাতে পেশা গড়তে আগ্রহী।’

দ্বিতীয় রানার্সআপ ডেনসিটি ডিমনস দলের সদস্য সাঈদ আহমেদ মৃধা ও মো. রাশেদুল ইসলাম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের ইইই বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি দক্ষতা ও জানাশোনার সুযোগ বাড়ে। আমরা ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর খাত-সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক কাজ ও গবেষণার সুযোগ নিতে চাই। সামনে প্রসেসর ও চিপনির্ভর কাজ আরও বাড়বে, সেখানে এমন ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা আমাদের দক্ষতা বাড়াবে।’

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
//ডিবিটেক/নাফিসা আঞ্জুম/আইএইচ/এসএমই//