যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন ইন স্টেম’ বৃত্তির আবেদন শুরু
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। টানা ষষ্ঠবারের মতো ‘উইমেন ইন স্টেম’ শীর্ষক এ বৃত্তি কর্মসূচি চালু করেছে সংস্থাটি। এ বছর বিশ্বব্যাপী মোট ৯০টি বৃত্তি দেওয়া হবে, যেখানে ৩০টি দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বরাদ্দ ২৫টি বৃত্তির আওতায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘গোয়িং গ্লোবাল পার্টনারশিপস’ উদ্যোগের অংশ এই কর্মসূচির আওতায় নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্টেম–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল ও বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের ৪৩টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ জন এই সম্মানজনক বৃত্তি পেয়েছেন। এবার বৃত্তি পেতে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কলারশিপ ফর উইমেন ইন স্টেম’-এর জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল ঢাকা সূত্রে প্রকাশ, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি বৃত্তির ন্যূনতম আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার পাউন্ড। সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার ভাতা, ভ্রমণ ও ভিসা ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ফি এবং ইংরেজি ভাষা সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি স্টেম খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার এবং যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল হেড অব এনাবলিং রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্স ড. জেন বার্ডসলি বলেন, “এই উদ্যোগ স্টেম খাতে নারীদের ক্যারিয়ার গড়ার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়তা করছে এবং বিজ্ঞানে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বর তৈরি করছে।”
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন তৌফিক হাসান বলেন, “যুক্তরাজ্যের বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী জগতের সাথে উদীয়মান নারী নেত্রীদের যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী স্টেম পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাংলাদেশের স্টেম স্কলার সাদিয়া জামান বলেন, “ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন ইন স্টেম’ স্কলার হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা জীবন বদলে দেওয়ার মতো। এতে আমার গবেষণার দক্ষতা ও নারীবাদী চর্চা আরও শক্তিশালী হয়েছে।”
ডিবিটেক/এমআরআর/ইকে







