প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেয়া হবে
শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতে বরিশাল শিল্পকলা মিলনায়তন অংশীজনদের সঙ্গে সচেতনতা মূলক মতবিনিময় সভায় এমনটাই জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশাল আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে এবং ধীরে ধীরে পেপারলেস ও পেনলেস শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালকরা (পিডিরা) চালাকি করে পার পাবেন না। আমাদেরকে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' নীতিতে যেতেই হবে। আমরা আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আগামীতে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে প্রদান করা হবে।
'আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে সকল বোর্ডে পরীক্ষা নেয়া হবে। তাতে বোর্ড ভিত্তিক প্রশ্নের বিভিন্ন মানের কারণে কোন শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হবে না'- যোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পরাজিত সরকার শিক্ষক কল্যাণ ট্রাষ্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের সাত হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে তাই শিক্ষকরা তাদের অধিকার বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক কম্যুনিটির অংশ। বৈশ্বিক মেধা ও প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগ ও দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে দেশ ও জাতি পিছিয়ে পড়বে।
এহসানুল হক মিলন বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে মন্ত্রণালয়ের খরচে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যয় বহন করবে। এমসিকিউ পরীক্ষার পুরো সময় ফুটেজ সংরক্ষন করতে হবে।
"শিক্ষা মন্ত্রনালয় আমার উপাসনালয়, সদকায়ে জারিয়াহর ইবাদতখানা হিসেবে আমি শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি"- পূণর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। তাহলে আমরা পুরো পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিতে পারবো।
জুলাই অভ্যুত্থানে পরাজিত সরকার শিক্ষক কল্যাণ ট্রাষ্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের সাত হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে, তাই শিক্ষকরা তাদের অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাকালে অনলাইন শিক্ষার সূচনা হলেও প্রস্তুতির ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সুফল না মিললেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামীতে অভিন্ন প্রশ্নে সকল বোর্ডে পরীক্ষা নেয়া হবে। তাতে বোর্ড ভিত্তিক প্রশ্নের বিভিন্ন মানের কারণে কোন শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হবে না। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে মন্ত্রণালয়ের খরচে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যয় বহন করবে। এমসিকিউ পরীক্ষার পুরো সময় ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।
ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আরো বলেন, আগামী দিনে সারাদেশে একক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের চিন্তা চলছে। এবিষয়ে উপস্থিত শিক্ষকরা ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন।
এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবরকে গুজব উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। “প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে, তাই পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।”
শিক্ষাব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সারা দেশে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইউনুস আলী সিদ্দিকী। শিক্ষাবিদদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক।
সভায় মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. তৌফিক আলম, বরিশাল জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।
ডিবিটেক/এসএইচ/আইএইচ



