৩৯ ব্যাংকের ১ শতাংশ মুনাফায় বিএসআইসি’র যাত্রা শুরু ৩০ এপ্রিল
বাংলাদেশের উদীয়মান প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ বা স্টার্টআপগুলোর অর্থায়নে ৩৯ ব্যাংকের ১ শতাংশ মুনাফায় যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রাথমিক মূলধন নিয়ে গঠিত এই ফান্ডটি আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
দেশের প্রথম বড় এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি। নতুন এই কোম্পানির কৌশলগত পরামর্শক করা হয়েছে গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসেল পার্টনার্সকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ঋণ নয়, বরং ইক্যুইটি ভিত্তিক অর্থায়ন প্রদান করবে। অর্থাৎ বিএসআইসি স্টার্টআপের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে এবং কোনো সুদ গ্রহণ করবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অন্তত তিনটি স্টার্টআপে বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, পরিবহন, রিটেল ও লজিস্টিকস খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএসআইসি-এর বড় অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (৭.৭১%), সিটি ব্যাংক (৬.৭৪%), ডাচ-বাংলা ব্যাংক (৬.৬৭%), পূবালী ব্যাংক (৬.৫%) ও সোনালী ব্যাংক (৫.৭৩%)। প্রতি বছর ব্যাংকগুলোর নিট লাভের ১ শতাংশ অবদানে এই ফান্ডের আকার আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে ৮-১২টি স্টার্টআপে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আকর্ষণ করা। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এই পরিচালনা বোর্ড সদস্যের মধ্যে ৫ জন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি এবং ৪ জন স্বতন্ত্র পরিচালক। বর্তমানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বিএসআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী অস্থায়ী সিইও হিসেবে রয়েছেন। আর পরিচালক হিসেবে থাকছেন প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), সোনালী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের এমডি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মে মাসের মধ্যে একজন অভিজ্ঞ স্থায়ী সিইও এবং হেড অফ ইনভেস্টমেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
জানাগেছে, বিএসআইসি শুধুমাত্র অর্থায়নই করবে না, বরং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। ২০২৯ সালের পর সফল স্টার্টআপগুলো থেকে শেয়ার বাজার বা সরাসরি অংশ বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই ফান্ডের।



