জলবায়ু স্থিতিশীলতায় প্রকৃতি-ভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর জোর
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রকৃতি-ভিত্তিক প্রযুক্তি ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন অপরিহার্য।
১৯ মে, মঙ্গলবার সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত আঞ্চলিক ওয়েবিনারে এমন অভিমত জানান সার্কভুক্ত দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. রাজা উল্লাহ খান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান জলবায়ু স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়েবিনারে এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ারনেস সেন্টার-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. রিশিরাজ দত্ত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এসব পদ্ধতি দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
তিনি এশিয়ার বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা ও জনগণের সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। ড. রিশিরাজ দত্ত বলেন, “প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন আর বিকল্প নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু স্থিতিশীলতা ও জীবিকা সুরক্ষায় এটি অপরিহার্য।”
আরেকটি উপস্থাপনায় আইআরআইডিআর-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং গ্লোবাল ওয়েটল্যান্ড টেক অ্যাসোসিয়েশন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ফাবিও মাসি বর্জ্য পানি পরিশোধন ও পুনর্ব্যবহারে কম খরচের প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি তুলে ধরেন। তিনি বৃত্তাকার অর্থনীতি, চিকিৎসা জলাভূমি প্রযুক্তি এবং পানি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু-স্থিতিশীল সম্প্রদায় গড়ে তোলার বিষয় ব্যাখ্যা করেন।
ওয়েবিনারের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সমাপনী বক্তব্যে তানভীর আহমেদ তরফদার সার্ক কৃষি কেন্দ্রের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি টেকসই ও জলবায়ু-স্থিতিশীল উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডিবিটেক/এবি/এমইউএম



