ইরানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধেরও সূত্রপাত হয়েছে। শনিবার ভোরে ইরানের একাধিক ওয়েবসাইট ও জনপ্রিয় অ্যাপে হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনা ঘটে একই সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। খবর রয়টার্স।
হ্যাকাররা ইরানের ৫০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অ্যাপ ‘বাদে-সাবা’ হ্যাক করে সেখানে সরকারবিরোধী বার্তা দেয়। অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে দেখা যায়, “হিসাব নিকাশের সময় এসেছে” এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র ফেলে জনগণের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান। বেশ কয়েকটি সংবাদ ওয়েবসাইটও হ্যাক করে ভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হয়।
হামলার সময় ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেন্টিকের তথ্য বলছে, স্থানীয় সময় সকালে দু’দফায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম সংযোগ সক্রিয় থাকে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাইবার হামলাগুলো ইরানের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা সীমিত করার জন্যই করা হয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সামরিক স্থাপনাও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
হামলার জবাবে ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপগুলোও তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সোফসের হুমকি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক রাফে পিলিং বলেন, ইরান এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার বিকল্প বিবেচনা করছে। এ সময় ইরান-সমর্থিত গ্রুপ ও হ্যাকটিভিস্টরা ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, বাণিজ্যিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
ক্রাউডস্ট্রাইকের কাউন্টার অ্যাডভারসারি অপারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মেয়ার্স জানান, ইরান-সম্পৃক্ত হ্যাকার গ্রুপ ও হ্যাকটিভিস্টরা ইতিমধ্যেই নজরদারি চালাচ্ছে এবং ডিডিওএস হামলা শুরু করেছে। অ্যানোমালি নামের আরেক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, হামলার আগেই ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপগুলো ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ‘ডাটা ওয়াইপার’ হামলা চালিয়েছে, যা পুরো ডাটা মুছে দেয়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরানের সাইবার প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাইবার আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিবিটেক/বিএমটি



