বিটিআরসি’র সামনে এমবিসিবি’র সড়ক অবরোধ

বিটিআরসি’র সামনে এমবিসিবি’র সড়ক অবরোধ
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:০৩  
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১৪  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে ‘অবৈধ’ মোবাইল আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। 

৭ ডিসেম্বর, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা আগারাগাঁও প্রশাসনিক এলাকারা প্রধান সড়কটি অবরোধ করলে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। 

অবরোধে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনটির সভাপতি  মোহাম্মদ আসলাম বলেন, আমরা যারা তৃণমূলের খুচরা ব্যবসায়ী তাদের মোবাইল আমদানি করার সুযোগ দেয়া হোক। আমদানি করতে গিয়ে বিটিআরসি’র বাধাগুলো অপসারণ করা হোক। এনবিআর থেকে ধার্যকৃত ৫৮-৬১ শতাংশ ট্যাক্স অসহনীয়। মেনে নেয়ার মতো নয়। আমাদের ১০-১২ শতাংশ ট্যাক্স দিলে আমরা দেবো। কোনো সারচার্জ এর হাংকিপাকিং চলবে না।  

আগামী ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ব্যানারে নানা সমস্যার বিভিন্ন মার্কেটে ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধে নামে তারা। এর আগে ডিবি অফিস, কাওরানবাজার ও যমুনা ফিউচারপার্ক মার্কেটের সামনে অবরোধ করেছিলো তারা। 

অবরোধ চলাকালে ব্যবসায়ীরা ‘সিন্ডিকেটের কালো হাতা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’; ‘ আমারা সোনার বাংলায় সিন্ডিকেটের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দেয়া হয়। স্লোগানে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে রাস্তা ছাড়া হবে না। অবরোধ চলাকালে ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি-দাওয়া সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানান। তাদের দাবি ৯টি মোবাইল ফোন কোম্পানির টাকায় বিটিআরসি এনইআইআর বাস্তবায়ন করে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই হঠাৎ এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। বর্তমানে তাদের স্টকে কোটি কোটি টাকার হ্যান্ডসেট রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত হ্যান্ডসেট বিক্রি করা অসম্ভব। দাবি না মেনে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দিলে তারা পথে বসবেন।

এমবিসিবির নেতারা জানান, এনইআইআরের বর্তমান কাঠামো যদি অপরিবর্তিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুল্ক ৫৭ শতাংশ হোক কিংবা শূন্য শতাংশ, কোনো অবস্থাতেই বৈধ উপায়ে মোবাইল ফোন আমদানি সম্ভব হবে না। কারণ বিটিআরসির আমদানি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড যদি স্থানীয়ভাবে তাদের পণ্য সংযোজন করে, তাহলে সেই ব্র্যান্ডের কোনো মডেল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারবে না।

তাদের দাবি, এ নীতিমালা কার্যত মনোপলি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে বাজারে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মোবাইল ফোন বাজারের নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ডিবিটেক/বিএনটু/ইকে