বাজারে ছাড়া হলো দেশে তৈরি অনার স্মার্ট ফোন
বিজয়ের মাসে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এক দিনে তিনটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে পার্কের ৬ নম্বর ব্লকের ৬ নম্বর প্লটে ২ একর জমিতে অবস্থিত স্মার্ট হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা অনার ব্র্যান্ডের উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন করেন তিনি। কারখানার নিচ তলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জুড়ে ছিলো 'প্রাউডলি মেড ইন বাংলাদেশ' ব্যানারে। কোরআন তিলওয়াতের পর জাতীয় সঙ্গীতের সুরে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় গৌরবের এই অভিযাত্রা।
সঙ্গে ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া, বিটিআরসি পরিচালক এমডি নুরুন্নবি ও স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
তারা ছাড়াও অনুষ্ঠানে অনার বাংলাদেশের কন্ট্রি ডিরেক্টর লেঙ গুও, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ডেরিক জর্জ ঝেঙ, সাপ্লাই চেইন বিভাগের চেয়ারম্যান ডেরিক ডেঙ, স্মার্ট বাংলাদেশের মোবাইল বিভাগের বিজনেস ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভুল নীতির কারণে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ। এটা বাড়াতে শুল্ক কাঠামো আরও অ্যাট্রাক্টিভ করা হবে। এড-টেক, এগ্রিটেক ও ফিনটেককের বকাশে আমরা ডেটার দাম কমাতে নতুন টেরিকম কাঠামো করেছি।
এছাড়াও এনইআইআর এই যাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করেন আইসিটি সচিব।
জহিরুল ইসলাম বলেন, অনারের সঙ্গ ৩ বছরে ব্যবসায় এবং আইসিটি বিভাগ থেকে হাইটেক পার্কে জায়গা পাওয়ার পর বাংলাদেশেই অনারের স্মার্টফোন তৈরির জন্য এই কারখানা স্থাপন করলাম। এখানে উৎপাদিত ফোন আমরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই। আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে আমরা দ্বিতীয় রফতানি খাত হতে চাই।
এর আগে বাংলাদেশে কারখানা করতে ব্র্যান্ডটির বাংলাদেশী পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে গত ১৬ নভেম্বর চুক্তিবদ্ধ হন অনারের সাউথ ইস্ট এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ ঝাও।
জানাগেছে, স্মার্ট টেকনোলজির এই অবকাঠামোতে প্রায় ১২০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে স্মার্টফোনের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ধাপে ৮০০ থেকে ১০০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, টিভি, নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, স্পিকার এবং ক্যামেরাসহ আরও বিস্তৃত ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ থেকে একটি সারি থেকে উৎপাদিত অনর স্মার্টফোন দেশের বাজারে দেয়া হলো। অচিরেই এটি ৪টিতে বাড়ানো হবে। উৎপাদিত পণ্যের একটি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে অনার। এর পর থেকেই অনার দেশের অন্যতম স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। অনারের বৈশ্বিক লক্ষ্য—অনার আলফা প্ল্যানের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, ক্রেতাকেন্দ্রিক উদ্ভাবনের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সব ক্রেতাদের জন্য জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে নতুন এ কারখানা স্থাপন অনারের সে প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর







