৩ দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের
নবম গ্রেডে ডিপ্লোমাধারীদের নিয়োগ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ৩ দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন নামক একটি প্লাটফর্ম। যোগ দিয়েছেন বুয়েটসহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। কর্মসূচির প্রথম ধাপে আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ আগস্ট ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।
দাবির সপক্ষে ২৩ আগস্ট, শনিবার রাতে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। মিছিলটি বক্সিবাজার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ঘুরে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
পরে শাহবাগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৪ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করবেন।
সেখানে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি মেনে নেবেন না তারা। দশম গ্রেডে ইঞ্জিনিয়ার পদে ডিপ্লোমাদের কোটা বাতিলের দাবিও ওঠে সেখানে। এ সময় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া কেউ যাতে ইঞ্জিনিয়ার পদ ব্যবহার করতে না পারে সেই দাবিও করেন তারা।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনও পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় দাবি’র মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল দশম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। নন অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IEB-BAETE অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন প্লাটফর্মটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিবুল হক লিপু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দাবি মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। আপাতত ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।
তারা বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি বৈষম্যের আরেকটি চিত্র হলো অবৈধ সিনিয়রিটি প্রদান। একই বছরে বিএসসি প্রকৌশলী আগে নিয়োগ পেলেও, যদি সেই বছরের শেষের দিকে কোনও ডিপ্লোমাধারী পদোন্নতি পায়, তবে পরবর্তী সব পদোন্নতির ক্ষেত্রে সেই ডিপ্লোমাধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি সুস্পষ্ট বৈষম্য এবং বিএসসি প্রকৌশলীদের জুনিয়র বানিয়ে রাখার এক অন্যায় প্রচেষ্টা।
বিবৃতিতে বলা হয়, নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার চেয়ে জব সার্কুলার দেওয়া হলে, ডিপ্লোমাধারীরা রিট বা মামলা করে তা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ আটকে যায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ডিপ্লোমাধারীদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রমোশন দিতে বাধ্য হয়।







