হিট প্রকল্পে কঠোর মনিটরিং
স্মার্ট ক্যাম্পাসে ডিজিটাল রূপান্তরে জোর
- বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্যাম্পাস ও অনলাইন প্রশাসন গড়ার উদ্যোগ চলছে
- হিট প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে
- পাঁচ বছরে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় এনে স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করা এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উপপ্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। কোনো প্রকল্পে বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর সমস্যা দেখা গেলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা বা যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়া প্রকল্পে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করা নয়; দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবশিষ্ট সময়ে বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনার পাশাপাশি স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ এবং একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি হবে।
শিক্ষক উন্নয়নের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এসব কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্রে হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান ও জাতীয় উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান প্রদান ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, হিট প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে হিট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনসহ হিট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান।
এ সময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প ও বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/আইএইচইউজি/এসএমই/এমএসআই//





