পরীক্ষায় হল খোঁজার ভোগান্তি কমাতে বাকৃবিতে ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’
ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে পরীক্ষার হল খুঁজে পাওয়ার ভোগান্তি কমাতে তৃতীয়বারের মতো ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। আসন্ন কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে বাকৃবি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ সিস্টেম।
আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সিস্টেমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্ভাবক দলের সদস্যরা জানান, ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ একটি ওয়েবভিত্তিক সেবা। গুগল ক্রোম ব্রাউজারে ‘exam hall finder’ লিখে সার্চ করলেই এই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাবে। এতে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ রোল নম্বর প্রদান করলে নির্ধারিত পরীক্ষার হলের প্রধান ফটকের ছবি দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে জিপিএস প্রযুক্তির সহায়তায় সবচেয়ে কম সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী এবং ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ উদ্ভাবন দলের সদস্যরা।
সিস্টেমটির ডেভেলপার টিমে ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক হাওলাদার (চতুর্থ বর্ষ), ইশমামুল হক (তৃতীয় বর্ষ) এবং আসিফ জামান (দ্বিতীয় বর্ষ)। আর মডিফিকেশন টিমে ছিলেন একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মেহেদী হাসান তুষার, নাসরান ফারদিন, লামিয়া ইসলাম ও ফাতেমা ইসলাম।
বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার অ্যাপ উদ্ভাবন দলের সদস্য ও কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশমামুল হক বলেন, ‘বাকৃবি ক্যাম্পাস অনেক বড়। অনুষদ ও ইনস্টিটিউটগুলো একে অন্যের থেকে দূরে অবস্থিত। এই ক্যাম্পাস পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য একেবারেই নতুন। পরীক্ষার হল খোঁজা নিয়ে যেন তাঁদের কোনো ভোগান্তি না হয়, সেই চিন্তা থেকেই আমরা এক্সাম হল ফাইন্ডার নিয়ে কাজ শুরু করি।’
অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, আগামী শনিবারের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ছবিসহ কেন্দ্র চেনার সুবিধা এবং জিপিএস নেভিগেশন। এছাড়া পরীক্ষার্থীরা যেন সহজেই কেন্দ্র খুঁজে পায়, সেজন্য ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে কিউআর কোডসহ ফেস্টুন থাকবে এবং প্রয়োজনে ভলান্টিয়ার ও আইসিটি সেল হেল্প ডেস্কের সাথে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিট কার্ড ভুলে যাওয়া বা অন্য যেকোনো যান্ত্রিক সমস্যায় আইসিটি সেল সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে এবং ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল সেবাটি কৃষি গুচ্ছের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি এবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আমতলায় কেন্দ্রীয় সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে ভর্তিচ্ছুরা আবাসন ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য কাদের সাথে যোগাযোগ করবেন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাবেন।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, বিশাল এই ক্যাম্পাসে সিট খুঁজে পাওয়ার দুশ্চিন্তা দূর করতে আমাদের শিক্ষার্থীরা ‘বাউ এক্সাম হল ফাইন্ডার’ অ্যাপের মাধ্যমে যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, তা দেশের যেকোনো ক্যাম্পাসের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ছিল সে সময় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় সিট খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট হয়েছে কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ডিজিটাল উদ্ভাবন সেই পেরেশানি দূর করে ভর্তিচ্ছুদের জন্য এক স্বস্তি তৈরি করবে বলে আশা রাখছি।
ডিবিটেক/ডিএন/ইকে







