তথ্য অধিকার দিবসে ইয়াসের খান চৌধুরী
অপতথ্য ও এআই অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক
- ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক তথ্য নিশ্চিত ও অপতথ্য রোধে আন্তর্জাতিক সমন্বিত পদক্ষেপের জোর আহ্বান
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত মানহানি ও ভুয়া পরিচয়ের বিস্তার রোধে সতর্কবার্তা
- তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সম্মিলিত পর্যালোচনা
ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, অ্যালগরিদমিক অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনৈতিক অপব্যবহার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমন্বিত কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তথ্য কমিশনের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ; অপতথ্যরোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিজিটাল যুগে নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করা হয়।
আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, বরং সঠিক তথ্যের পাশাপাশি অপতথ্য ও অসত্য তথ্যের বিস্তার এখন বড় প্রযুক্তিগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য জানার অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে, তবে সেই তথ্য হতে হবে প্রামাণ্য ও নির্ভুল। ভুল ও অসত্য তথ্য শুধু ব্যক্তির ওপরই নয়; পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনীতিবিদসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করার আগে তার অ্যালগরিদম ও নির্ভরযোগ্য সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, অসচেতনভাবে যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বড় ধরনের সাইবার হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং জেনারেটিভ এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ছবি ও পরিচয় বিকৃতির মাধ্যমে মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি সতর্ক করে জানান, এখন থেকেই কার্যকর কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নিলে অপতথ্য ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সামগ্রিক ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্র বৈশ্বিক হুমকির মুখে পড়বে; যা মোকাবিলায় বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুমন রহমান। আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব মোঃ শাহ আলমসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর প্রধানরা। ডিজিটাল মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত ও ডিপফেকসহ এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি সভার সম্মিলিত বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
//ডিবিটেক/এসপিআর/এসএমপিিআমআইআর//





