প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছালো স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা 'স্পেসএক্স'। টেক্সাসের উড্ডয়ন কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের পর প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট 'স্টারশিপ'।
সোমবারের এই মিশনে উড্ডয়নের পরপরই রকেটের ওপরের অংশটি পৃথক হওয়ার সময় ছয়টি 'র্যাপটর' ইঞ্জিনের একটি অচল হয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক শঙ্কা কাটিয়ে সফলভাবেই কক্ষপথে প্রবেশ করে রকেটটি এবং সেখানে ইন্টারনেট সেবাদাতা ২৬টি শক্তিশালী নতুন প্রজন্মের ‘ভি-৩’ 'স্টারলিংক' স্যাটেলাইট সফলভাবে মোতায়েন করে।
মিশন পরিচালনা ও বুস্টার অবতরণ
পূর্বে পরিকল্পিত ৯ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩ ঘণ্টা কক্ষপথে অবস্থানের পর নিরাপত্তা বিবেচনায় স্পেসএক্স স্টারশিপের ওপরের অংশটি প্রশান্ত মহাসাগরে ফিরিয়ে আনে। তবে মিশন চলাকালে প্রতিটি স্যাটেলাইটের সঙ্গেই সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া শুরু করবে।
একটি মাত্র স্টারশিপের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে যে পরিমাণ ধারণক্ষমতা যুক্ত হয়, তা ফ্যালকন-৯ রকেটের ২০টি আলাদা উড্ডয়নের সমান। এর পাশাপাশি রকেটের প্রথম ধাপের ‘সুপার হেভি বুস্টার’ অংশটি মেক্সিকো উপসাগরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের মহড়া ল্যান্ডিং সম্পন্ন করতে পেরেছে।
বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ ও অবকাঠামো বিস্তার
চাঁদে নাসার পরবর্তী মানব মিশন এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক ডাটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন ইলন মাস্ক।
পুঁজিবাজারে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক আইপিও আসার পর এটি স্টারশিপের দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ছিল।
রকেটটিকে পুরোপুরি পুনঃব্যবহারযোগ্য করে তুলতে এবং বছরে হাজার হাজার উড্ডয়ন পরিচালনা করার লক্ষ্যে লুইজিয়ানা রাজ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন এক সুবিশাল ‘স্টারবেস’ কমপ্লেক্স তৈরির ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





