শান্তিপূর্ণ পরমাণু ব্যবহারে ঐতিহাসিক সমঝোতা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সই

  • বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই
  • বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ স্বাক্ষর করেন
  • পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিজ্ঞানী বিনিময় এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে যৌথ গবেষণা সম্প্রসারণে দুই দে

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সই
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৬  

ঢাকা: বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও টেকসই ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার, উচ্চপর্যায়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময় এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সমঝোতার আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করে।

ওয়াশিংটনে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গভীরতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। জাতীয় ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও শিল্প চাহিদার টেকসই জোগান নিশ্চিতকরণে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা চুক্তিতে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আওতায় দুই দেশই পারমাণবিক নিরাপত্তা, ফিজিক্যাল প্রোটেকশন, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে (নন-প্রলিফারেশন) আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ মানদণ্ড ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণে সম্মত হয়েছে।

চুক্তির নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় রাষ্ট্রেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ব্যাপক সেফগার্ডস চুক্তি ও এর অতিরিক্ত প্রোটোকল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি দুটি দেশই ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বিশ্বস্ত ও সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই কৌশলগত চুক্তির ঐতিহাসিক পটভূমি প্রোথিত রয়েছে চার দশক পূর্বে। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী শাসনামলে ওয়াশিংটনের সাথে যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের প্রাথমিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, বর্তমান রূপরেখাটি মূলত তারই এক পরিণত ও আধুনিক ধারাবাহিকতা। সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফরের সময় এই কৌশলগত সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল ওয়াশিংটন।

এর আগে গত ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবকে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের মনোভাব ইতিবাচক এবং প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।"

প্রসঙ্গত, দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি রূপান্তর ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা সুসংহত করতে চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর জ্বালানি খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিষয়ক আরেকটি যুগান্তকারী সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান পারমাণবিক চুক্তিটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্য বেসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ, উচ্চপ্রযুক্তির প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় বিজ্ঞানীদের সক্ষমতা বাড়াতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

//ডিবিটেক/ বিএমএস/এসএমই/বিটিওপি//