দ্বিতীয় ধাপের হাম টিকা ক্যাম্পেইন শুরু; বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশু পাবে টিকা
হামের জটিলতায় দেশীয় উদ্ভাবনী অক্সিজেন প্রযুক্তি: বাঁচল হাজারো শিশুর প্রাণ
- হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুসের চিকিৎসায় আইসিডিডিআর,বি-র ১৫০ টাকার বোতলভিত্তিক দেশীয় অক্সিজেন পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- বনানীর কড়াইল মাঠে দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন উদ্বোধন; বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য
- পূর্ববর্তী দীর্ঘসূত্রতায় হামে এক হাজার শিশুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ; সংকট সামাল দিতে জরুরি প্রয়োজনে সংরক্ষিত থাকছে ১০ লা
হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষায় সাশ্রয়ী দেশীয় উদ্ভাবন এবং যুগান্তকারী চিকিৎসা প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল টিএনটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চরম অপুষ্টির শিকার শিশুরা হামে আক্রান্ত হওয়ার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জটিল এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-র চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত মাত্র ১৫০ টাকা খরচে পানির বোতলে কৃত্রিম বাবল-সিপ্যাপ (Bubble CPAP) প্রযুক্তির অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা হাজার হাজার শিশুর জীবন রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। চিকিৎসা প্রযুক্তির এই দেশীয় সফল প্রয়োগকে অত্যন্ত কার্যকর মডেল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট গবেষক ও চিকিৎসকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি কোভিড মহামারিসহ যেকোনো জাতীয় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশের চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ উন্নত বিশ্বের তুলনায় মৃত্যুর হার বহুলাংশে কমাতে সক্ষম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতি এবং ওপেন টেন্ডারের নামে ভ্যাকসিন আমদানিতে বিলম্বের কারণে দেশে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক এক হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানিকে রাষ্ট্রীয় লজ্জা ও গভীর বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে কার্যকর টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। ২০ এপ্রিল থেকে পরিচালিত বৃহৎ অভিযানে ইতিমধ্যে এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষিত করতে দ্বিতীয় ধাপের এই বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হলো। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও নিয়মিত টিকাদানের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে সরকারের কাছে অতিরিক্ত ১০ লাখ ডোজ টিকা সংরক্ষিত রয়েছে।
//ডিবিটেক/জেএনআর/ এসএমপি/বিটুপি//





