রামেক হাসপাতালে এআরটি সেন্টার উদ্বোধন

রামেক হাসপাতালে এআরটি সেন্টার উদ্বোধন
১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:০৬  

অবশেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চালু হলো অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার। ১৫ নভেম্বর, শনিবার এআরটি সেন্টার উদ্বোধন করেন রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মেদ।

রামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন থেকে এই সেন্টারে এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হবে। এতে করে এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের বগুড়ার শজিমেক গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। রামেকের এই সেন্টার থেকে তারা ওষুধ পাবে। এআরটি সেন্টারের ফোকাল পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডা. ইবরাহীম মো. শরফ।

সূত্রমতে, রামেক হাসপাতালের আইটডোরে এইচটিসি সেন্টারে এইচআইভির জীবাণু পরীক্ষা করা হয়। তবে ওষুধের ব্যবস্থা নেই। রাজশাহী বিভাগে অন্য সব জেলায় পজিটিভ হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিতে হয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) থেকে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। 

প্রসঙ্গত, এক দশক আগে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে এইচআইভি-এইডস রোগের চিকিৎসার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এইডস সেবাকেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তখন জানানো হয়েছিলো, কনফিডেন্ট অ্যাপ্রোচ টু এইডস প্রিভেনশন (ক্যাপ) পরিচালিত এ কেন্দ্রে এইডস রোগের পরীক্ষাসহ সেবা পাবেন রোগীরা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই সেবা মিলবে। এতোদিন মূলত রামেক হাসপাতালে শুধু এইচআইভি টেস্ট ও কাউন্সেলিং করা হতো। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসার ও ওষুধের জন্য রাজশাহীর রোগীদের বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) যেতে হতো। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য রামেক হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।


এদিকে  চলতি বছরের ১০ মাসে নতুন ২৮ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয় এই সেন্টারে একই সময়ে এইডসে আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি রাজশাহীতে সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রামেকের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬৪ নমুনা পরীক্ষায় এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে ৯৩ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের। একই সময়ে এইচআইভিতে মারা গেছেন আটজন। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন পরীক্ষা করাতে আসেন। যাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসে তাদের কাউন্সেলিং করা হয়। বলা হয়, ‘এইচআইভি সম্পূর্ণ নিরাময় না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অর্থাৎ নিয়মিত চিকিৎসা এবং ওষুধ সেবনে আক্রান্তরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে ২০১৯ সালে রামেক হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম বছর ৭৭ জনের নমুনায় কারো দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। ২০২০ সালে দুই জন পজিটিভ হন। এরপর ২০২১ সালে ৮ জন, ২০২২ সালে ৮ জন, ২০২৩ সালে ২৪ জন, ২০২৪ সালে ২৭ জন ও ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে আক্রান্ত ২৭ জনের ১৬ জনই সমকামীতার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। এরমধ্যে যৌনকর্মীর মাধ্যমে ১০ এবং রক্তের মাধ্যমে একজন সংক্রমিত হয়েছেন। চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত শনাক্ত ২৮ জনের ১৭ জন সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া যৌনকর্মীর মাধ্যমে ১০ ও রক্তের মাধ্যমে একজন সংক্রমিত হয়েছেন।

রামেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর রেজাউল করিম বলেন, নমুনা পরীক্ষায় এইচআইভি পজিটিভ শনাক্তের পর অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ আত্মহত্যার কথাও ভাবেন। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডিবিটেক/বানি/ডিপি