মটোরোলা সিগনেচার ২৭: ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও প্রসেসরের ঝিলিক
স্মার্টফোনের বাজারে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দিতে নিজেদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ হ্যান্ডসেটের প্রথম ঝিলিক উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মটোরোলা। চিপসেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের 'স্ন্যাপড্রাগন সামিট' মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত এই ফোনের নাম দেওয়া হয়েছে 'মটোরোলা সিগনেচার ২৭'।
মটোরোলার সিগনেচার সিরিজের এটি দ্বিতীয় ফোন হলেও, নামকরণের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে চমৎকার এক পরিবর্তন। আগামী বছরের শেষ দুই সংখ্যা বা বর্ষপঞ্জিকে ভিত্তি করে এই নতুন ফ্ল্যাগশিপটির নাম রাখা হয়েছে সিগনেচার ২৭। বাজারের অন্যান্য সেরা ফ্ল্যাগশিপের সঙ্গে টেক্কা দিতে এতে যুক্ত করা হয়েছে কোয়ালকমের একদম নতুন ও শক্তিশালী ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট এক্সট্রিম জেন ৬’ প্রসেসর।
শক্তিশালী কুলিং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
স্মার্টফোনে ভারী কাজ করা কিংবা দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে মটোরোলা ব্যবহার করেছে বিশেষ 'আর্কটিকম্যাশ' কুলিং প্রযুক্তি। নতুন এই কুলিং সিস্টেমে একটি সুবিশাল ভেপার চেম্বার রয়েছে, যা আগের সংস্করণের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বড়।
ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জটিল কাজ কিংবা তীব্র প্রসেসিং চাপের মধ্যেও হ্যান্ডসেটটির পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না এবং এটি থাকবে ঠান্ডা ও স্বাভাবিক। প্রসেসরের দুর্দান্ত গতির সঙ্গে এই উন্নত কুলিং প্রযুক্তির সমন্বয় ফোনটিকে গেমার এবং ব্যস্ত ব্যবহারকারীদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় করে তুলবে।
২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও শব্দের নতুন দুনিয়া
ছবি তোলার ক্ষেত্রে মটোরোলা সিগনেচার ২৭ প্রযুক্তিপ্রেমীদের এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। ফোনটির পেছনে মূল ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.৫ ডিগ্রি অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস সুবিধাসহ ৫০ মেগাপিক্সেলের সোনি এলওয়াইটি ৯১০ সেন্সর।
তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এতে রাখা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী পেরিস্কোপ টেলিফোটো ক্যামেরা। দূরত্বের স্পষ্ট ছবি ও চমৎকার জুম সুবিধার জন্য এই লেন্সটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত সাউন্ড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন'-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে মটোরোলা। সেই যৌথ উদ্যোগের প্রথম ফসল হিসেবে এই নতুন ফোনে মিলবে ‘অডিও বাই বি অ্যান্ড ও’ প্রযুক্তি, যা গান শোনা ও ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাকে অন্য মাত্রা দেবে।
আকর্ষণীয় ডিজাইন ও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন
ডিজাইনের দিক থেকেও সাধারণ ফোনের চেয়ে কিছুটা আলাদা এই প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট। ফোনটি পাওয়া যাবে 'প্যান্টোন কোল স্মোক' এবং 'প্যান্টোন ক্যাপুলেট অলিভ'- এই দুটি অভিজাত রঙে। দুটিতেই ব্যাক প্যানেলে রয়েছে বিশেষ টেক্সচার ফিনিশ, যা দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি ব্যবহারের সময় হাত থেকে পিছলে যাওয়া প্রতিরোধ করে চমৎকার গ্রিপ নিশ্চিত করবে।
সফটওয়্যার সুরক্ষার বিষয়েও গ্রাহকদের বড় আশ্বস্তবার্তা দিয়েছে মটোরোলা। প্রতিষ্ঠানটি এই সিগনেচার ২৭ মডেলটির জন্য টানা সাত বছরের অপারেটিং সিস্টেম আপডেটের ঘোষণা দিয়েছে।
চলতি বছরের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে আসার কথা থাকলেও, ফোনটির চূড়ান্ত প্রকাশের তারিখ, প্রদর্শনী স্পেসিফিকেশন ও আসল দাম জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি





