এই ৫টি কাজে এআই ব্যবহার করবেন না

এই ৫টি কাজে এআই ব্যবহার করবেন না
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৩  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জগতে চ্যাটজিপিটি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে অতিনির্ভরতা ও অসচেতনতার কারণে অনেকেই প্রতিদিন এতে ব্যক্তিগত ও অতিসংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করে বিপদে পড়ছেন। 

স্যামসাংয়ের প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ ব্যবহারকারী- চ্যাটজিপিটিতে গোপন বা ভুল তথ্য শেয়ার করে আইনি ও ফিজিক্যাল ঝুঁকিতে পড়ার তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। 

খোদ ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে, এই চ্যাটবটে তথ্য আদান-প্রদান একেবারেই ব্যক্তিগত বা আইনিভাবে সুরক্ষিত নয়। কোনো আদালতের নির্দেশ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। 

গবেষণা, কোডিং বা বিভিন্ন খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে এআই দরকারী হলেও, অন্তত পাঁচটি স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

আইনি পরামর্শ ও আদালতের নথি
আইনি কোনো জটিলতায় চ্যাটজিপিটির ওপর নির্ভর করা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি আইনি মামলায় চ্যাটজিপিটির তৈরি ভুয়া তথ্য ও কাল্পনিক রেফারেন্স ব্যবহারের ঘটনা ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। 

সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক পেশাদার উকিলও এআইয়ের বানানো মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজানো নথি আদালতে জমা দিয়ে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন। 

ওপেনএআই ইতিমধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদারদের ছাড়া আইনি পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তাদের নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা এনেছে। তা ছাড়া, উকিলের সঙ্গে কথোপকথন আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকলেও চ্যাটজিপিটিতে লেখা শব্দ আদালত তলব করতে পারে। তাই সাধারণ নিয়ম জানা ছাড়া নিজস্ব কোনো মামলার নথি বা জটিলতায় এআইয়ের সাহায্য নেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

থেরাপিস্ট বা মানসিক চিকিৎসকের বিকল্প
প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ মানুষ বিষন্নতা বা জটিল মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু চ্যাটবট কখনোই কোনো অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলরের বিকল্প হতে পারে না। 

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই সাধারণত ব্যবহারকারীর চিন্তাভাবনাকেই তোষামোদমূলকভাবে সমর্থন করে। ফলে কোনো মানসিক চাপে থাকা বা বিভ্রান্ত মানুষের জন্য এটি উল্টো মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি এআইয়ের ভুল প্ররোচনায় আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। 

এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআই দিয়ে থেরাপি প্রদান বা সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। নিজের মনের কথা বা মানসিক সংকটে চ্যাটজিপিটিকে চিকিৎসক ভাবা একেবারেই নিরাপদ নয়।

প্রতিষ্ঠানের গোপন ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য
কর্মক্ষেত্রের কোনো সংবেদনশীল নথি বা গোপনীয় কোড চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করা চাকরি হারানোর মতো অপরাধ হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা সরকারি গোপনীয় ফাইল চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। 

একইভাবে স্যামসাংয়ের প্রকৌশলীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সোর্স কোড চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহার করার পর প্রতিষ্ঠানটি এআই ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কোনো ব্যবহারকারী যদি তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধও রাখেন, তবুও এআইয়ের বাহ্যিক সার্ভারে সেসব তথ্য সংরক্ষিত থাকে যা হ্যাক হতে পারে বা আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরিত হতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠানের কোনো গোপনীয় চুক্তি বা গ্রাহকের ডেটা এআই বাক্সে আপলোড করা উচিত নয়।

চিকিৎসকের বদলে এআইয়ের দাওয়াই
শারীরিক অসুস্থতায় চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে পরামর্শ বা ওষুধের নাম খোঁজা জীবননাশের কারণ হতে পারে। রোগীর পূর্ব ইতিহাস ও সঠিক মাত্রার ওষুধ নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভরযোগ্যতা মোটেও প্রমাণিত নয়। 

সম্প্রতি এক বয়স্ক ব্যক্তি খাবারে লবণের বিকল্প জানতে চাইলে চ্যাটজিপিটি তাঁকে ব্রোমাইড গ্রহণের পরমর্শ দেয়। তিনি বাজার থেকে এই বিষাক্ত রাসায়নিক কিনে তিন মাস ধরে খেয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন। 

চিকিৎসকদের সংগঠন এবং খোদ ওপেনএআই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এআইয়ের বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য
নিজের পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পাসপোর্টের তথ্য চ্যাটজিপিটিতে কখনোই লেখা উচিত নয়। অতীতে সার্চ ইঞ্জিনে ভুলবশত চ্যাটজিপিটির বহু ব্যক্তিগত চ্যাট হিস্ট্রি উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

তা ছাড়া কপিরাইট সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে আদালতের নির্দেশে ব্যবহারকারীদের মুছে ফেলা চ্যাটও দীর্ঘদিন সার্ভারে সংরক্ষণ করতে হয়েছিল। চ্যাটজিপিটি আপনার দেওয়া তথ্য স্মৃতিতে জমা রাখে, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো কথোপকথনে ভুলবশত প্রকাশ পেতে পারে। তাই সাইবার জালিয়াতি ও পরিচয় চুরি থেকে রক্ষা পেতে চ্যাটজিপিটিতে স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা প্রয়োজন।

ডিবিটেক/বিএমটি