সাংবাদিকদের সম্মাননা দিতে প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আবেদন আহ্বান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন ফেয়ার উপলক্ষে লেখালেখির জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করা হবে। গত এক বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে যেসব সাংবাদিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন সেগুলো মূল্যায়ন করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
২৪ ডিসেম্বর, বুধবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
আগ্রহী সাংবাদিকদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়েবসাইটে গিয়ে লিংকে আবেদন করতে হবে।
আগামী ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজারমুখী গবেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইনোভেশন ফেয়ারের ঘোষণা দিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এই মেলাটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (এসএমএসটি)। ‘স্বপ্ন থেকে উদ্ভাবন, সমৃদ্ধি আনবে বাণিজ্যিকীরণ’ প্রত্যয়ে এই মেলা উপলক্ষে গত ২২ ডিসেম্বর, সোমবার মতবিনিময় সভা করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে আয়োজন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। এটি একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম যেখানে উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ একসাথে যুক্ত হবেন। বাংলাদেশে অনেক মেধাবী উদ্ভাবক রয়েছেন যারা নতুন ধারণা, প্রযুক্তি ও প্রোটোটাইপ নিয়ে কাজ করছেন। তবে তাদের উদ্ভাবন প্রায়শই গবেষণাগার বা সীমিত পরিসরে থেমে যায়, যা জাতীয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত করে। সাংবাদিকদের জানানো হয় এ ফেয়ারের মাধ্যমে উদ্ভাবক ও শিল্পোদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে উদ্ভাবনকে বাজারে পৌঁছানো যাবে সহজে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী খান, বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান, বিজ্ঞান জাদুঘরের মহাপরিচালক মুনীরা সুলতানা, যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিবের একান্ত সচিব মো. আল আমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, দেশ-বিদেশের গবেষক ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন, বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলেবাস আধুনিকায়ন করা, তৃণমূল পর্যায়ে বিজ্ঞান ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া এবং উদ্ভাবন প্রতিয়োগিতার আয়োজনে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা।
পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি গতিশীল এবং সহজে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর বিষয়টি উঠে আসে আলোচনায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, রাসায়নিকমুক্ত উপায়ে খাবার প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য খাতে পরমাণু শক্তির বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে।
সভায় বিজ্ঞান সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, দেশের উন্নয়নে সায়েন্স (বিজ্ঞান), টেকনোলজি (প্রযুক্তি), ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রকৌশল) ও ম্যাথমেটিক্স (গণিত) বিষয়ে দক্ষ হওয়া খুবই জরুরি। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নানান উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য এ খাতের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করছি। সবার কাছ থেকে পরামর্শ ও মতামত নেয়া হচ্ছে বিজ্ঞান মনোস্ক জাতি গঠনে।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞানের উপর শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের গবেষকদের মধ্যে আমাদের দেশেও ২৫৮ জন গবেষক আছে। কিন্তু শিল্পায়নের সঙ্গে এসব গবেষকদের প্রায়োগিক জায়গার সমন্বয় না থাকার কারনে তেমন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমরা বাজারমুখী গবেষনায় জোড় দিতে চাই। যাতে গবেষকদের গবেষণা শিল্পায়নের কাজে লাগে।’ তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন, নিয়মিত বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা প্রকাশের যাতে করে ভবিষৎ প্রজন্ম বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে গড়ে ওঠে।
ডিবিটেক/বিজ্ঞপ্তি/ইক







