ঢাকায় ৮ রঙের ৮ জোন; সোলার চার্জিং ও কারখানা নিবন্ধনের আওতায় আসছে থ্রি-হুইলার
বুয়েটের প্রত্যয়ন ও জিও-ফেন্সিংয়ে ই-রিকশা নীতিমালা
- বুয়েট বা সরকারি পলিটেকনিকের অটোমোবাইল প্রত্যয়ন ও ট্রাফিক ফিটনেস ছাড়া মিলবে না ই-রিকশার নিবন্ধন।
- ঢাকায় উত্তরে ৪টি ও দক্ষিণে ৪টিসহ মোট ৮ জোনে পৃথক রঙ ও জিও-ফেন্সিং; প্রধান সড়কে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ঢাকায় ২ ও ৪ আসনের রিকশা নিবন্ধন পেলেও ৬ আসনের রিকশা নিষিদ্ধ; কিউআর কোড যাচাই ও সৌরবিদ্যুতে রিচার্জ বাধ্যবাধকতা
রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার (ই-রিকশা) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ট্রাফিক বিভাগের কঠোর কারিগরি শর্ত যুক্ত করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। ৩০ আগস্ট, ২০২৬ রবিবার সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নীতিমালার কারিগরি কাঠামো তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বুয়েট, অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো এই নিবন্ধন প্রদান করবে। একই সঙ্গে যত্রতত্র অনুমোদনহীন নির্মাণ বন্ধে উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী যারা উৎপাদন করবে, তাদের সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার তালিকাভুক্ত নিবন্ধিত কোম্পানি হতে হবে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪টি করে মোট ৮টি জোন নির্ধারণ করা হচ্ছে। ৮টি জোনের জন্য ৮টি ভিন্ন রঙ নির্ধারণ করা হবে, যাতে এক জোনের অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারে। কোন রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে জোনভিত্তিক এলাকা চিহ্নিতকরণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যানবাহনে ডিজিটাল ‘জিও-ফেন্সিং’ (Geo-fencing) ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকবে। ঢাকার প্রধান ও মূল সড়কে ই-রিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে; এগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কে চলাচল করতে পারবে।
যানবাহনের স্পেসিফিকেশন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকায় কেবল ২ ও ৪ আসনবিশিষ্ট ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে। ঢাকায় ৬ যাত্রী ধারণক্ষমতার কোনো ই-রিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না; তবে এই ৬ আসনের যানগুলো জেলা শহর ও গ্রামীণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন পাবে। পাশাপাশি ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্টগুলোতে পর্যায়ক্রমে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ (Solar Power) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে ১৬ আগস্ট মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে নিবন্ধন ছাড়া কোনো রিকশা চলতে দেওয়া হবে না এবং কিউআর কোড (QR Code) প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করে ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এছাড়া গত ২৮ অক্টোবর গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকেও অটো রিকশাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় নিবন্ধন এবং চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদানের দাবিতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ও র্যালি পালন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সমন্বিত প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থায় কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
//ডিবিটেক/জিএনও/এনএপি/এমআইএসটি//





