রবির মামলায় শেয়ার বিজকে হাইকোর্টের নির্দেশ

  • রবির মামলায় হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ
  • মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা
  • ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি রবির

রবির মামলায় শেয়ার বিজকে হাইকোর্টের নির্দেশ
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ০৯:৫৬  

টেলিযোগাযোগ অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি ও এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কথিত মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ থেকে শেয়ার বিজসহ বিবাদীদের বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবি আজিয়াটার করা দেওয়ানি মামলায় ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবির প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকবে।

১০ আগস্ট, সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবির করা দেওয়ানি রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি রুল জারি করেন আদালত।

আদালতের কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনের কারণে সুনাম ও ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ তুলে রবি ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি টাইটেল মামলা করেছে।

মামলায় বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে শেয়ার বিজ, প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং রবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (সিএইচআরও) মারুফুল আলম চৌধুরীসহ অন্যরা।

হাইকোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আবেদন চূড়ান্তভাবে শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীরা রবি ও এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে কথিত মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর বা অবমাননাকর কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ থেকে বিরত থাকবেন।

রবির পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সুহান খান বলেন, আদালতের এ নির্দেশ প্রমাণ করে যে গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হলেও তা দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং সংবিধানে সুরক্ষিত সুনামের অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে সুনামের যে সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তা সংরক্ষণ ও জোরদার করেছে। তার মতে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সীমা অতিক্রম করে অনুমাননির্ভর বা বেপরোয়া বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার পক্ষে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যবহার করা যায় না।

ব্যারিস্টার খান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে অস্পষ্ট বা যাচাইহীন অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ের জন্য দায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আড়ালে বৈধতা দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের এ নির্দেশ সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি ও আইনগত সত্তার মর্যাদা, সমতা ও আইনানুগ অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দায়িত্বশীল, আইনসম্মত এবং সুনামের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, যোগাযোগ করা হলে শেয়ার বিজের সম্পাদক হাসান শিরাজি হাইকোর্টের নির্দেশের বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, শেয়ার বিজ নথিপত্রের ভিত্তিতে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আদালতে মামলা করে।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে তাদের আইনজীবীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত এসব নথি পর্যালোচনা করে মামলাটি খারিজ করবেন বলে তারা আশা করছেন।

শেয়ার বিজ এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি অস্বীকার করেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমএসআই//