টেক্সটাইল ও পোশাক প্রযুক্তির মেগা প্রদর্শনী নিয়ে বিজিএমইএ-বিটিএমএ সমঝোতা

টেক্সটাইল ও পোশাক প্রযুক্তির মেগা প্রদর্শনী নিয়ে বিজিএমইএ-বিটিএমএ সমঝোতা
৪ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:১৫  
৪ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:২১  

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন’ (বিআইটিএমএ) যৌথভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক ও বস্ত্র খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন।

৪ আগস্ট, মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ১০ সদস্যের যৌথ আয়োজক কমিটির তদারকিতে ঢাকায় বিশ্বমানের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজিত হবে। 

প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে কমিটির সভাপতি মনোনীত হবে, যেখানে প্রথম আসরে বিটিএমএ সভাপতি এবং বিজিএমইএ সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এই প্রদর্শনীতে সর্বাধুনিক টেক্সটাইল ও পোশাক তৈরির যন্ত্রপাতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি, অটোমেশন সমাধান এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা প্রদর্শিত হবে এবং প্রদর্শনী থেকে অর্জিত মুনাফা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ভাগ করে নেওয়া হবে।

এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এটি কেবল একটি যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই সংগঠনের জন্য দেশের অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক খাতের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। তিনি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের প্রসার ও অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের বাংলাদেশে খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির আহ্বান জানান এবং সরবরাহ চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে যৌথ সালিশি ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, পূর্বে ‘ডিটিজি’ নামে পরিচিত তাদের দ্বি-বার্ষিক প্রদর্শনীটি এই যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরও বড় ও আন্তর্জাতিক রূপ পাবে, যা উদ্যোক্তাদের বিদেশ না গিয়েই দেশেই আধুনিক প্রযুক্তি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেবে। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ এই উদ্যোগকে এলডিসি উত্তরণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ঐতিহাসিক ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশকে টেকসই বস্ত্র উৎপাদনের বৈশ্বিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

//ডিবিটেক/এসএমই/এমএসআই//